সুবর্ণচরে ধর্ষণে জড়িত ব্যক্তি সাবেক বিএনপি

বিচারপতি মানিক

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধর্ষণের একটি ঘটনা ঘটেছে। যে ব্যক্তিরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাদের নেতৃত্বে একজন আওয়ামী লীগ নেতা আছেন বটে। তবে ওই আওয়ামী লীগ নেতা আসলে আওয়ামী লীগ ছিলেন না, বিএনপি করতেন, তিনি তো আওয়ামী লীগে এসেও তার সাবেক বিএনপির চরিত্র ছাড়েননি।’ গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাগো বাংলা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের অংশগ্রহণে ‘নির্বাচন-২০১৮ : অপরাজনীতির প্রস্থান ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি করেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সাবেক এই বিচারপতি বলেন, ‘ওই ধর্ষণের ঘটনায় রাজনীতির সম্পর্ক কিন্তু খুবই কম। মহিলা সমিতির দুজন ইতোমধ্যে ঘুরে এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাটি নেহাত ব্যক্তিগত কারণে ঘটেছে। তিনি (অভিযুক্ত ব্যক্তি) অতীতে বিএনপিতে ছিলেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘নির্বাচনে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। এবার নির্বাচনে বহু দেশের অবজারভার (পর্যবেক্ষক) এসেছিলেন। নেপাল থেকে, ভারত থেকে, ওআইসি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এসেছিলেন। কেউ কিন্তু মৌলিক অনিয়মের কোনো কথা বলেননি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেক ষড়যন্ত্র রয়েছে। আমরা ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু একটা বিষয় মাথায় রাখাতে হবে, ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে খুন করা হয়েছিল পঁচাত্তর সালে। আমাদের এসব ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকতে হবে।’

বিচারপতি মানিক বলেন, ‘মেজর জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি বাধ্য হয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। তবে তিনি মূলত পাকিস্তানি হিসেবেই কাজ করেছেন। তিনি বীর-উত্তম খেতাব পেয়েছিলেন সেটা যেমন সত্য, তেমনি সত্য তিনি ওপারে মুক্তিযুদ্ধ করেননি। তার মুক্তিযুদ্ধের কোনো ঘটনা আমরা জানি না।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে হয়েছিল। আন্দাজভিত্তিক নয়, সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বলছি। জেনারেল শফিউল্লাহ, কর্নেল হামিদ, কর্নেল শাফায়েত জামিল সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সেটা জেনেছি।’

নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘ড. কামাল স্বাধীনতা কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করেছেন। যদিও তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তবে বঙ্গবন্ধুর পরামর্শদাতা ছিলেন। লাহোরে জেলেও ছিলেন। পরে বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে ও অসাম্প্রদায়িক নেতা হিসেবে পাকিস্তান থেকে তাকে বঙ্গবন্ধুই ফিরিয়ে এনেছিলেন। খন্দকার মোশতাক আওয়ামী লীগ ছেড়ে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুই ফিরিয়ে এনেছিলেন। তার মাথায় যে বদবুদ্ধি ছিল, তা যে বঙ্গবন্ধু জানতেন না তা নয়, জানতেন। কিন্তু আমরা সরষের মধ্যে ভূত তাড়াতে সংকোচবোধ করি। এটা আর করা যাবে না।’

বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘অপরাজনীতি থেকে দূরে থাকতেই বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসেছি। অপরাজনীতির প্রস্থান ও নতুন অধ্যায় তৈরি করা কোনো ঘটনা নয়, এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এই গোলটেবিল বৈঠকে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর আবদুল মান্নান চৌধুরী, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মো. আলী সিকদার, সাংবাদিক সুভাষ সিংহ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

"