ফেলানী হত্যার ৮ বছর

মিলাদ ও কাঙালিভোজের আয়োজন

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
ama ami

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নির্মমভাবে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার আট বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল সোমবার। দিনটি উপলক্ষে নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের নিজ বাড়ি কলোনীটারীতে সকালে ফেলানীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও কাঙালী ভোজের আয়োজন করে তার পরিবার। গত রোববার রাতে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার-উল-আলম ফেলানীর বাবা নূর ইসলামের পরিবারের খোঁজখবর নেন। বিজিবি’র পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল পরিচালনা ও নতুন কাপড়-চোপড়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ফেলানীর পরিবারটিকে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করার কথা জানান কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ীর উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবা নূর ইসলামের সঙ্গে মই দিয়ে কাঁটাতার বেড়া টপকিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয় ফেলানী। ফেলানীর নিথর দেহ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ছিল দীর্ঘ চার ঘণ্টা। এ হত্যাকান্ডে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমসহ মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠলে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়।

২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন ভারতের কোচবিহারের সোনারী ছাউনিতে স্থাপিত বিএসএফ’র বিশেষ আদালত। পুনঃবিচারের দাবিতে ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারের নিকট আবেদন করেন। পরে বিজিবি-বিএসএফ’র দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে ফেলানী হত্যার পুনঃবিচারের সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনঃবিচার শুরু করে বিএসএফ। ওই বছরের ১৭ নভেম্বর ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে অমিয় ঘোষকে অভিযুক্ত করে পুনরায় সাক্ষ্য প্রদান করেন এবং অমিয় ঘোষের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

২০১৫ সালের ১৩ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) ফেলানী খাতুন হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সেদেশের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করে। ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর শুনানির পর ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে বার বার তারিখ পিছিয়ে যায়। আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি।

অপরদিকে ফেলানীর মা জাহানারা বেগম ও বাবা নূর ইসলামের অভিযোগ, সরকার ফেলানীর পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও হতদরিদ্র এই পরিবারের পাশে সেভাবে দাঁড়ায়নি। এ ছাড়াও বার বার শুনানি পিছিয়ে যাওয়া ও বিচার কাজ আটকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। বছরের এই সময় শুধু বিজিবি ও সাংবাদিকরাই খোঁজ নেয়।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী সীমান্তের দায়িত্বে থাকা লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার-উল-আলম জানান, তিনি গত রোববার রাতে ফেলানীর এলাকায় গিয়ে তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য ছয় হাজার টাকা প্রদান করা হয় বলে জানা যায়। জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, ফেলানীর পরিবারকে জেলা প্রশাসন ও বিজিবি’র উদ্যোগে একটি দোকান করে দেওয়া হয়েছে।

 

"