প্রথম কলাম

মার্কেল : যাজকের মেয়ে থেকে ‘সম্রাজ্ঞী’

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

জার্মানির ক্ষমতাসীন দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট দলের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেল।

গত শুক্রবার ৭ ডিসেম্বর এক আবেগময় বিদায়ী ভাষণে মার্কেল তার দেশের ভেতরে এবং বাইরে জার্মানির উদার মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। নিজেকে তিনি একজন বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। একসময় তাকে বর্ণনা করা হতো ‘জার্মানির রানী’ হিসেবে এমনকী কেউ কেউ তাকে ডাকতেন ‘ইউরোপের সম্রাজ্ঞী’ বলে।

১৮ বছর তিনি তার দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর পরপর চার মেয়াদে দেশটির চ্যান্সেলারের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দলের নেতৃত্ব এখন ছাড়লেও চ্যান্সেলার হিসেবে তার চতুর্থ মেয়াদ শেষ করবেন ২০২১ সালে।

মিসেস মার্কেলের ক্ষমতার শক্ত ভিত প্রথম নড়ে যায় যখন শরণার্থীদের জন্য জার্মানির উন্মুক্ত দ্বার নীতির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে তাকে পড়তে হয়। তার এই নীতির ফলশ্রুতিতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দেশটির চরম ডানপন্থিরা এবং তার দল প্রায় ৭০ বছরের নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করে ২০১৭ সালে।

মার্কেল বলেন, কোনো রাজনৈতিক পদ নিয়ে তার ভবিষ্যৎ কোনো পরিকল্পনা নেই। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে দুই জার্মানি একত্রিত হবার পর থেকে তিনি কোনো না কোনো রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখন পর্যন্ত একটার পর একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন।

১৯৫৪ সালের ১৭ই জুলাই জার্মানির হামবুর্গ শহরে এঙ্গেলা কাসনারের। যখন তার বয়স মাত্র দুই মাস তখন তার বাবাকে পূর্ব জার্মানির এক ছোট্ট শহরের এক গির্জার ধর্মযাজকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কম্যুনিস্ট পূর্ব জার্মানিতে বার্লিনের উপকণ্ঠে এক গ্রাম এলাকায় বড় হয়েছেন এঙ্গেলা মার্কেল। পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট করে এঙ্গেলা কাজ নেন পূর্ব বার্লিনের একটি বিজ্ঞান অ্যাকাডেমিতে রসায়নবিদ হিসেবে। ১৯৭৭ সালে সহপাঠী ছাত্র উলরিখ মার্কেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু চার বছর পর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ১৯৮৯ সালের মধ্যে তিনি পূর্ব জার্মানিতে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গতিশীল হয়ে ওঠে তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এঙ্গেলা। এরপর বার্লিন প্রাচীর যখন ভেঙে ফেলা হয়, তখন পূর্ব জার্মানিতে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর তিনি পূর্ব জার্মান সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ নেন।

১৯৯০ সালে জার্মানির একত্রীকরণের দুই মাস পর তিনি মধ্য দক্ষিণপন্থি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট পার্টিতে (সিপিইউ) যোগ দেন। পরের বছর চ্যান্সেলার হেলমুট কোলের সরকারে তিনি নারী ও তরুণবিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। কোল অবৈধ অর্থ লেনদেনের এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লে মার্কেল ১৯৯৯ সালে তার পদত্যাগ দাবি করেন। ২০০০ সালে সিপিইউ দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে তিনি জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলার হন। ২০১৭-এর সাধারণ নির্বাচনে মার্কেলের সিডিইউ দল খুবই খারাপ ফল করে। ১৯৪৯ সালের পর এটাই ছিল দলের সবচেয়ে শোচনীয় ফল, যা ছিল মিসেস মার্কেলের প্রতি জনসমর্থন তলানিতে যাওয়ার ইঙ্গিত। এই এঙ্গেলা মার্কেলের উদার অভিবাসন নীতির কারণেই মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার দেশগুলো থেকে গড়পড়তা গত তিন দশকে জার্মানিতে প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পেয়েছে।

"