হবিগঞ্জে অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, বাহুবল ও মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন জলাশয় এবং হাওরে আসছে অতিথি পাখি। এসব পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে এখন হাওর মুখরিত। ঠিক সেই সময় অবাধে শুরু হয়েছে পাখি শিকার। এসব পাখি শিকার করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সেগুলো প্রকাশ্যে বিক্রি করছে শিকারিরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাখি শিকার আইনত অপরাধ, কিন্তু মানছে না শিকারিরা। পাখি শিকার করে বিক্রি করছেন, টাকা কামাচ্ছেন। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। তবে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বেশকিছু স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে সেটা খুবই সীমিত পর্যায়ে এবং তাতেও রোধ করা যাচ্ছে না পাখি শিকার।

জানা যায়, শীতের আগমনের শুরু থেকেই হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় বক ও পেরি হাঁস, শালিকসহ নানান জাতের অতিথি পাখি আসতে শুরু করে। পাখি আসতে শুরু করলেও শিকারিদের আক্রমণের কারণে হাওর কিংবা জলাশয়ে বিচরণ করতে পারছে না পাখিগুলো। যে কারণে হাওর থেকে পাখিগুলো অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকার কাজল হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে হাওরে নতুন নতুন পাখি আসতে শুরু করেছে। আর পাখিগুলো শিকার করার জন্য শিকারিরা বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ তৈরি করে রাখছে। প্রতিদিনই শিকারিরা ওই ফাঁদের মাধ্যমে পাখি শিকার করে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছে। আর এতে করে তারা হাজার হাজার টাকা আয় করছে। তিনি প্রশাসনের কাছে পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বাহুবল উপজেলার মিরপুর গ্রামের বাসিন্দা দিদার এলাহী সাজু জানান, এমনিতেই বাংলাদেশে অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তার ওপর যদি আবার অসাধু শিকারিরা এসব পাখি শিকার করতে থাকে তাহলে আগামী দিনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী পাখিগুলোকে খুঁজেই পাওয়া যাবে না।

সুহেল আহমেদে নামে অপর আরেক ব্যক্তি জানান, সাদা বক, ঘুঘু, বালি হাঁস, পানকৌড়ি ও শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখির আনাগোনা এ সময়ে বেড়ে যায়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় পাখি অনন্য ভূমিকা পালন করে। তাই এ প্রাণীকূলকে আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশের স্বার্থেই রক্ষা করা জরুরি।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিগ্যান চাকমা জানান, পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ। পাখি শিকারিদের ধরতে ইতোমধ্যে সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যেহেতু শিকারিরা বেশিরভাগ পাখি হাওরে শিকার করে তাই তাদের ধরা সম্ভব হয় না। অভিযানের কথা টের পেয়ে তারা হাওর দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

"