নেত্রকোনার জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণ

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

১৩ বছর আগে নেত্রকোনা শহরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও শতদল কার্যালয়ের সামনে বোমা হামলায় নিহতের স্মরণ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে নিহতদের স্বরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. শফিউদ্দিন আহমেদ। হামলায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, জঙ্গি-মৌলবাদীরা সংস্কৃতিকে পছন্দ করে না। বিশ্বের যেসব মৌলবাদী শক্তি ছিল, তারা কখনোই সংস্কৃতিকে সহ্য করতে পারেনি। বর্তমানে যেসব মৌলবাদী শক্তি রয়েছে, তারা সব সময় সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কামান, গোলা, বারুদ দিয়ে নয় বরং নান্দনিকতা, নাটক, কবিতা অর্থাৎ সংস্কৃতি দিয়ে লড়াই করে এদের প্রতিরোধ করতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, নেত্রকোনাসহ সারা দেশে যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী বোমা হামলা চালিয়েছে তারা এখনো দুর্বল হয়ে যায়নি। তৎকালীন ক্ষমতাসীন কিছু গোষ্ঠী এসব মৌলবাদীদের সহযোগিতা করেছিল। সামনের নির্বাচনে বড় যে দুটি জোট নির্বাচন করবেÑ উভয়টিতেই মৌলবাদীদের অবস্থান রয়েছে। বাংলাদেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হলে অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, মো. সেলিম, প্রবীর সরদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী প্রমুখ। আলোচনায় বক্তারা বলেন, নেত্রকোনার হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের বিচার হলেও এর নেপথ্যের নায়কদের এখনো বিচার হয়নি। তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা শহরের অজহর রোডে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও শতদলের কার্যালয়ের সামনে জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলায় উদীচীর খাজা হায়দার হোসেন ও সুদীপ্তা পাল শেলীসহ আটজন নিহত হন, আহত হন অন্তত অর্ধশত। ওই ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তিন জঙ্গি সালাউদ্দিন, আসাদুজ্জামান ও ফাহিমাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়।

"