আজকের সেনাবাহিনী একদশক আগের চেয়ে আলাদা

রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

গত ১০ বছরে সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ৭৬তম বিএমএ লং কোর্সের ক্যাডেট অফিসারদের কমিশন লাভে রাষ্ট্রপতি পদক-২০১৮ অনুষ্ঠানে ভাষণকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত প্রায় ১০ বছরে সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি বাহিনীর সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নসহ শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবকাঠামোগত, কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে এক দশক আগেকার সেনাবাহিনীর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদির সমন্বয়ে অনেক বেশি উন্নত, দক্ষ এবং চৌকস।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তরুণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে অনেক রক্ত ও ত্যাগ-তিতীক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। এজন্য সবাই সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্নার সমান অংশীদার হতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রপতি বলেন, যেকোনো দুর্যোগ ও দুঃসময়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের কাজের মাধ্যমে এমন নজির স্থাপন করবে যা পরবর্তীদের জন্য অনুসরণীয় হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দক্ষতা, মেধা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির গৌরব। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গড়ে উঠেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী শক্তিশালী ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ১৯৭৪ সালে কুমিল্লায় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির উদ্বোধন করেন। বিএমএ আজ একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমি। এর আগে রাষ্ট্রপতি খোলা জিপে চড়ে চৌকস প্যারেড ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি কৃতী ক্যাডেটদের মাঝে পদক প্রদান করেন। শনিবারের প্যারেডের মাধ্যমে ৩৭ জন নারী, দুজন সৌদি অ্যারাবিয়ান ও একজন শ্রীলংকানসহ ২৫৭ ক্যাডেট কমিশনপ্রাপ্ত হন।

বিএমএ ৭৬তম লং কোর্সে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার এ কে এম ইনজামামুল বেস্ট অল রাউন্ড ক্যাডেট নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সোর্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এছাড়া সামরিক বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ মান লাভ করায় কোম্পানি সিনিয়র অফিসার ইবনে ইজাজ হাসান চিফ অব আর্মি স্টাফ (সিএএস) স্বর্ণপদক লাভ করেন।

মন্ত্রিরা, উপদেষ্টারা, কূটনীতিকরা, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতারা, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামুদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মশিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সংসদ সদস্যরা, রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এবং নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

"