বগুড়ায় ঘুরছে হনুমান

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বগুড়া প্রতিনিধি
ama ami

বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় মুখপোড়া হনুমান ঘুরছে। খাবারের সন্ধানে বাসাবাড়ি, দোকানপাট, হাট-বাজার ও হোটেল রেস্টুরেন্টের খাবার তুলে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে হনুমানটিকে বগুড়া শহরের পৌর অ্যাডওয়ার্ড পার্ক, দত্তবাড়ি, মহিলা কলেজ, চেলোপাড়া, ফুলবাড়ী, প্রেসপট্টি, সূত্রাপুর রিয়াজ কাজী লেন ও মালতিনগর এলাকায় দেখা পাওয়া যায়। গাছ থেকে গাছে, ভবন থেকে ভবনের ছাদে, দেয়ালের ওপরে হনুমানটি বসছে। মানুষ বানরটিকে দেখতে ভিড় ও বিরক্ত করছে।

খাবারের খোঁজে দলছুট হয়ে লোকালয়ে ছুটে এসেছে একটি হনুমান। কয়েক দিন ধরেই বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় হনুমানটি ঘোরাফেরা করছে। বিষয়টি জেনেও উদ্ধার করার ব্যাপারে তেমন কোনো আগ্রহ নেই জেলা প্রশাসনের। উৎসুক জনতা হনুমানটিকে আপেল, কলা, পাউরুটিসহ বিভিন্ন রকমের খাবার খেতে দিচ্ছে।

জানা যায়, ৪ ডিসেম্বর বগুড়া শহরের অদূরে সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের পাশে দিয়ে বয়ে যাওয়া সুবিল খালের গাছপালায় প্রথম হনুমানটির দেখা মেলে। ৫ ডিসেম্বর রাতে হনুমানটি শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় চলে আসে। এরপর বৃহস্পতিবার ৬ ডিসেম্বর একইভাবে রাতের বেলায় স্থান পরিবর্তন করে প্রেসপট্টি এলাকায় চলে আসে। হনুমানটি এখনো কোনো মানুষের ক্ষতি করেনি। কিন্তু মানুষ দেখে হনুমানটি সব সময় ভয়ে থাকে।

রাজশাহী বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করা দরকার। তবে এই মুহূর্তে হনুমানটি উদ্ধার করার কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃতিতে ওরা বিচরণ করে। হনুমানকে বিরক্ত না করলে সে কারো ক্ষতি করবে না।

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (তীর) সভাপতি আরাফাত রহমান জানান, হনুমানটি দেখেছি। আমরা হনুমানটি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দফতরে জানিয়েছি। কিন্তু তেমন করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে খাবারের সন্ধানে হনুমানটি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এর আগে একটি শেরপুর উপজেলায় একই রকম হনুমান দেখা পাওয়া গিয়েছিল। সেটি যশোরের বেনাপোল থেকে ট্রাকের ছাদে করে এসেছিল। ধারণা করা হচ্ছে একইভাবে এই হনুমানটিও এসেছে।

"