কচুয়া উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের গণপদত্যাগের হুমকি

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে মনোনয়ন দেওয়া না হলে কচুয়া উপজেলা পৌর বিএনপির ও সব অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছেন। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুমকি দেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আবেদীন স্বপন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নকলমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, দুবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এহছানুল হক মিলন ৩৬টি মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে আজ কারা অন্তরীণ। তিনি এ দেশের শিক্ষাঙ্গনকে শুধু নকলমুক্তই নয়, বরং তিনি জাটকা নিধন অভিযানেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সাফল্য উল্লেখ করার মতো একটি কাজও যদি হয়ে থাকে, তাহলে সেটা ড. মিলনের নকলবিরোধী অভিযান। পরে ওয়ান-ইলেভেনের সরকার ড. মিলনের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির মামলা করতে না পারলেও মহাজোট সরকার তার বিরুদ্ধে ৩৬টি মিথ্যা মামলা করেছে। এরপর তিনি ২০১০ ও ২০১১ সালে ৪৪৯ দিন বিনা বিচারে কারাভোগ করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘এহসানুল হক মিলন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তার মনোনয়নপত্র চাঁদপুর রিটার্নিং অফিসার বৈধ বলেও ঘোষণা করেন। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, আজ আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, মিলন ভাইকে অযৌক্তিক অজ্ঞাত ও অনভিপ্রেত কারণে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র না দিয়ে এক আদম ব্যাপারীর দ্বারস্থ হয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জা এবং অপমানের। দলের শীর্ষ নেতারা মিলন ভাইয়ের চূড়ান্ত মনোনয়নের ব্যাপারে আমাদের একাধিকবার নিশ্চিত করলেও শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই হঠাৎ দৃশ্যপট পাল্টে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নাজমুন্নাহার বেবি, কচুয়া উপজেলা যুবদল সভাপতি মাসুদ ইলাহী সুবাস, সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম মিন্টুসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে মিলনের পক্ষে স্লোগান এবং বিক্ষোভ করেন তারা। পরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফলাফল কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর গেট খুলে দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসে তাৎক্ষণিকভাবে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে তার সমর্থকরা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে রওনা হন।

"