শীতলক্ষ্যার তীর কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আল-আমিন মিয়া, পলাশ (নরসিংদী)

শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর চলছে নানা মাত্রার নির্যাতন। বালু মহালের পাশাপাশি এবার পাড় কেটে চলছে মাটি বিক্রি। নরসিংদীর পলাশ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে মাটি বিক্রির হিড়িক পড়ে গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শতাধিক ট্রলার ভরে নদীর তীরের মাটি সংগ্রহ করছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র। আর এসব মাটি তারা বিক্রি করছেন ইটভাটায়। দীর্ঘদিন ধরে এসব মাটি বিক্রির কাজ চললেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে নীরব ভূমিকায়। যার কারণে মাটি কাটা চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নগদ টাকার লোভে তাদের সঙ্গে সম্প্রতি জড়িত হওয়া শুরু করেছেন স্থানীয় চাষিরা। তারা এখন চাষাবাদের চেয়ে নদীর তীরের মাটি বিক্রিতে বেশি লাভ দেখছেন। এতে নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে আছেন দুই পাড়ের মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা থেকে চরসিন্দুর ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জের জামালপুর থেকে দক্ষিণ নারগানা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদীর দুই তীরে ১৫টি স্থানে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। প্রতিটি স্পটে ৪০-৫০ জন শ্রমিক মাটি কেটে ট্রলারে তুলছেন। পরে ট্রলার ভরে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ইটভাটাগুলোতে। পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের কাউয়াদী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক শ্রমিক নদীর তীর ঘেঁষে ফসলি জমির মাটি কাটছেন।

১০-১২টি ট্রলার বোঝাই করে মাটি অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। এভাবে গত এক মাস ধরে এখান থেকে মাটি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মাটি কাটার কাজে নিয়েজিত শ্রমিকরা জানান, তারা মজুরির বিনিময়ে এখান থেকে মাটি কাটছেন। সারাদিনে ২০-২৫ টি ট্রলার ভরতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে এক মাটি ব্যবসায়ী এখান থেকে মাটি বিক্রি করছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এটি তার পৈত্রিক সম্পত্তি। এখানে ফসল হয় না বলে তিনি মাটি বিক্রি করছেন। অপরদিকে কালীগঞ্জের দক্ষিণ নারগানা গ্রামে নদীর তীরের মাটি কাটার বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, এখানে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আশাদ মিয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক মোড়ল মাটি বিক্রি করছেন। তাদের ভয়ে মাটি কাটার কাজে কেউ বাধা দিতে সাহস পাচ্ছে না। তবে মাটি কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে আশাদ ও মানিক জানান, তারা কোনো মাটি বিক্রি করছেন না। এসব ওই এলাকার কৃষকরা বিক্রি করছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ নারগানার আরেকটি স্থানে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর জুড়ে একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত। জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, নদীর এসব জায়গায় কৃষকরা ফসল করত। কিন্তু তারা ফসল না করে মাটি বিক্রি করছেন। আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটার লোকেরা তাদের কাছ থেকে মাটি কিনে নেয়। মধ্য আকারের একটি ট্রলার ভরে মাটি বিক্রি করলে দুই-তিন হাজার টাকা পাওয়া যায়। তাই টাকা পেয়ে তারা মাটি বিক্রি করছেন। নদীর তীরের মাটি কাটায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, অনেকেই বিক্রি করছেন আর প্রশাসন তো কাউকেই বাধা দিচ্ছে না।

এ ব্যাপরের জামালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহাবুব খান ফারুক জানান, মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থায়ীভাবে এটি বন্ধ করা যাচ্ছে না। আমরা অনেকবার ইউএনও ও অ্যাসিলেন্ট মহোদয়কে অবগত করেছি। কিন্তু তারা কোনো প্রদক্ষেপ নেয়নি।

নদীর তীরের মাটি কাটারা বিষয়ে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুসফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"