প্রথম কলাম

মেসির পাঠানো জার্সি কাল হয়েছে আফগান শিশু মুরতাজার

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ভক্ত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল ফেলেছিল এক আফগান বালক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে দ্বিতীয়বারের মতো আফগানিস্তানে নিজের বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে সাত বছর বয়সী এই বালককে।

এখন তারা কাবুলে আছে। এই বালকের মা বলেছেন, মেসির পাঠানো জার্সি কাল হয়েছে আমার ছেলের জন্য। তালেবান জঙ্গিরা ওকে ওঠিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিবিসি এ খবর জানায়।

প্লাস্টিক ব্যাগ দিয়ে মেসির জার্সি বানিয়ে তা পরিধান করে মুরতাজা আহমাদীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল ২০১৬ সালে।

পরে কাতারে তার স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে সাক্ষাৎও হয়েছিল, যে ঘটনায় রীতিমতো তারকা বনে গিয়েছিল ছোট মুরতাজা নিজেও।

কিন্তু এখন তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন তালেবানের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে তাদের।

আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গজনী প্রদেশে বসবাস করছিল মুরতাজার পরিবার। কিন্তু পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে তারা এখন পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে কাবুলে। এর আগে ২০১৬ সালেও তারা পাকিস্তানে স্বল্পমেয়াদি শরণার্থী সুবিধা পেতে আবেদন করেছিল। কিন্তু পরে অর্থ শেষ হয়ে পড়ায় দেশে ফিরে আসে তার পরিবার। আর এবার পরিস্থিতি কেমন হয় সেটা এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না।

আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির মহাভক্ত এই আফগান শিশু মুরতাজা। জার্সি কেনার সামর্থ্য নেই, তাই পলিথিন কেটে জার্সি বানিয়ে তার ওপর মেসির নাম ও জার্সি নাম্বার লিখে পরিধান করেছিল মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। পরে সেই জার্সি পরা তার ছবি কেউ একজন পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর সেটি ভাইরাল হয়ে পড়ে আর লোকজনও তাকে ‘ছোট মেসি’ ডাকতে শুরু করে। আর এ খবর পৌঁছায় লিওনেল মেসি পর্যন্ত। ইউনিসেফের মাধ্যমে তিনি নিজের স্বাক্ষর করা জার্সি পাঠান তাকে। পরে বার্সা তারকা যখন ২০১৬ সালে দোহাতে যান প্রীতি ম্যাচ খেলতে তখন মুরতাজাকে মেসির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ করা হয়। সেখানে প্রিয় তারকার সঙ্গে কিছুটা হাঁটার সুযোগও পায় এই বালক।

মুরতাজার পরিবার বলছে এই বিখ্যাত হওয়ার কারণেই তালেবানদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে মুরতাজা। তার মা শাফিকা বলছেন, ‘ওরা বলছে তোমরা ধনী হয়ে গেছো। মেসির কাছ থেকে যা টাকা পেয়েছো তা আমাদের দাও। নাহলে তোমার ছেলেকে নিয়ে যাব।’ তিনি বলছেন বাড়ি থেকে আসার সময় তারা কিছুই সঙ্গে নিতে পারেননি, এমনকি মেসির কাছ থেকে পাওয়া জার্সিটাও।

"