শিশু সিয়ামের খুনি গ্রেফতার

বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেকে হত্যা!

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিহত সিয়ামের বাবা মোফাজ্জল হোসেন ইটের ট্রলির মালিক ও মিঠু শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মালিকের বাসাতেই থাকতেন তিনি। কাজে যোগ দেওয়ার কয়েকদিন পর মিঠুর সঙ্গে হৃদয় নামে অপর এক শ্রমিকের ঝগড়া হয়। মালিক হিসেবে মোফাজ্জল হোসেন মিঠুকে চড়-থাপ্পড় ও গালমন্দ করে ঘটনার মীমাংসা করে দেন। কিন্তু এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মিঠু। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মালিকের চড়-থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে তার শিশুসন্তান সিয়ামকে (৬) নদীতে ফেলে হত্যা করে মিঠু। ৬ ডিসেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গন্ধবপুর থেকে মিঠুকে আটক করে র‌্যাব-১। সিয়াম বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-৩-এর কমান্ডার পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, চার মাস আগে আটক মিঠু সিয়ামের বাবার ইটের ট্রলির শ্রমিক হিসেবে কাজ নেন। তিনি সিয়ামদের বাসায়ই থাকতেন। কাজে যোগ দেওয়ার ১৫-১৬ দিন পরে অপর এক শ্রমিক হৃদয়ের সঙ্গে মিঠুর ঝগরা হয়। এ ঘটনায় মোফাজ্জল হোসেন মিঠুকে চড়-থাপ্পড় ও গালমন্দ করে মীমাংসা করে দেন।

কিন্তু মিঠু এ বিচার মেনে নিতে পারেননি। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মালিকের ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিয়ামকে নিয়ে মিঠু রূপগঞ্জের কাঞ্চনব্রিজে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার সময় কথা বলার ফাঁকে ব্রিজের রেলিংয়ে বসা সিয়ামকে ধাক্কা দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেন মিঠু। এ ঘটনার পর মিঠু পালিয়ে গন্ধবপুরে নিজ বাড়িতে চলে যান।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, সিয়াম নিখোঁজের ঘটনা জানাজানি হলে মিঠু ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে মিঠু স্বীকার করেছেন, মোফাজ্জল হোসেনের ওপর সেদিনের চড়-থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতেই শিশু সিয়ামকে তিনি নদীতে ফেলে হত্যা করেছেন। তবে সিয়ামের মৃতদেহ আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত সিয়ামের মা ফারজানা হোসেন বলেন, মিঠু আমার সন্তানকে নিয়ে বের হওয়ার পর সন্ধ্যা হয়ে গেলেও তারা ফিরেনি। রাত অনেক হয় কিন্তু সিয়াম আর আসে না। একসময় আমি ও সিয়ামের বাবা তাকে খুঁজতে বের হই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সিয়ামকে কোথাও পাইনি। এর কয়েকদিন পর মিঠু ফোন করে বলে, ‘তোর ছেলেকে নদীতে ফেলে দিয়েছি।’ পরে ১৭ সেপ্টেম্বর আমরা থানায় গিয়ে অপহরণের অভিযোগ করি। ভুক্তভোগী মা আক্ষেপ করে বলেন, ‘যাকে খাইয়েছি, থাকতে দিয়েছি, সেই আমার নিষ্পাপ আদরের শিশুসন্তানকে এভাবে হত্যা করল ! আমি এর বিচার চাই।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিরাব খালপাড়ের মোফাজ্জল হোসেনের ৬ বছরের শিশুসন্তান সিয়াম নিখোঁজ হয়। সিয়ামের বাবা মোফাজ্জলের শ্রমিক মিঠু ওইদিন পালিয়ে যান। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর সিয়ামের মা ফারজানা বাদী হয়ে পলাতক শ্রমিক মিঠু ও তার বাবা আনোয়ারসহ অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

"