সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম

স্বতন্ত্র প্রার্থিতা আটকাতেই ভোটার স্বাক্ষরকারী আইন

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মনোনয়ন বাতিল হওয়া নিয়ে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার বড় বড় কথা বলেন। তারা যদি বুঝতেন, (ভোটারদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা) এর জ্বালাটা কতটুকু, তাহলে তারা ১ শতাংশ ভোটারদের স্বাক্ষর সংগ্রহের আইনটা পাস করতেন না।’ স্বতন্ত্র প্রার্থিতা আটকাতেই ভোটার স্বাক্ষরকারী আইন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক নাগরিক সভায় হিরো আলম তার মনোনয়ন আবেদন বাতিল হওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকার অভিযোগে গত ২ ডিসেম্বর তার মনোনয়ন বাতিল হয়। স্বতন্ত্র এমপি ঐক্য পরিষদ এই নাগরিক সভার আয়োজন করে।

হিরো আলম বলেন, ‘আমাদের সবার একটাই সমস্যা ভোটারদের স্বাক্ষর। আমার এলাকায় ভোটার ৩ লাখ ১২ হাজার। আমার ৩১০০ ভোটার স্বাক্ষর লাগে, আমি ৩৫০০ দিয়েছি। তার পরও বাতিল হয়েছে। যাই হোক আপিল করলাম, সেখানেও কাজ হয়নি। তারা শুধু পাতা দেখছে আর উল্টাইছে। গ্রামগঞ্জের লোক তো এমনিতেই ভয় পায়, সত্য কথা বললে তো হয় লাশ হতে হয়, জেলখানায় যেতে হয়। না হয় এলাকা ছাড়তে হয়। তাই যাচাইয়ে অনেকে আমার কথা বলেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। দাবি জানাই, যাতে সমাধান হয়। আমরা যেন প্রার্থী হতে পারি, দরকার হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান সরকারের প্রতি জানিয়ে হিরো আলম বলেন, ‘রাজনীতি করতে গেলে অনেক কৌশল নিতে হয়। কিন্তু আমরা কৌশল বুঝি না। আমরা সাধারণভাবে চলি। আমরা সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই। রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা করতে চাই না। আপনারা (সরকার) রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা শুরু করছেন। তাই ব্যবসা বন্ধ করুন, সামনে আমাদের এগোতে দিন।’

হিরো আলম বলেন, এই দেশে একটা জিনিসই বুঝতেছি, এখনকার জনগণ আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে চায় না। এরা দুইটার একটাকেও চায় না, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে চায়। সরকার পরিকল্পিতভাবে ১ শতাংশ ভোটার স্বাক্ষরকারী আইন করেছে, যাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী না আসতে পারে। আমরা জনগণ চাইলে কাউকে হিরো বা জিরো করতে পারি। আমরা এক হই না বলেই এই সমস্যা।

নাগরিক সভায় সভাপতির বক্তব্য দেন স্বতন্ত্র এমপি ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. আবদুর রহিম। তিনি ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে দাঁড়িয়েছিলেন। তারও প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তিনি বলেন, নষ্ট রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবাইকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার দিতে হবে।

"