চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা

প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরখান, উত্তরা ও মিরপুর এলাকা থেকে মানব পাচার, সরকারি দফতরে চাকরিসহ বিভিন্ন প্রতারণায় জড়িত ভয়ংকর প্রতারক চক্রের প্রধানসহ ৫ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। প্রতারণার শিকার কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে চক্রের দলনেতা আসাদুজ্জামান আসাদসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক চক্রের অন্যরা হলো মো. ওসমান গাজী (৪৮), সিরাজুল ইসলাম (৫২), মো. টিপু সুলতান (৫৫) ও লিটন মাহমুদ (৩৫)। তাদের কাছ থেকে ৩২টি পাসপোর্ট, ৭টি জাল ভিসা, বিমানের একটি জাল টিকিট, ৩৪ লাখ টাকার বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, ১৫টি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প, ল্যাপটপ, ২টি কম্পিউটার, কালার প্রিন্টার, ৫টি মোবাইল ফোনসহ চাকরিপ্রার্থীদের অসংখ্য জীবনবৃত্তান্ত জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর উপ-অধিনায়ক মেজর রাকিব উজ্জামান জানান, এই চক্রের মূল হোতা আসাদুজ্জামান। উত্তরায় বাসাভাড়া নিয়ে একাধিক অফিস খুলে বসেন। প্রতারণার প্রথম কৌশল হিসেবে চক্রটি প্রথম সারির দৈনিক ও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতেন। এ ছাড়া নিজস্ব দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের নিজ অফিসে নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে কখনো ট্যুরিস্ট ভিসা, জাল ভিসা, জাল টিকিট, দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের কাজ। র‌্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, চক্রটি জাল ভিসা দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে ভুক্তভোগীদের একেকজনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে। জাল ভিসা তৈরির জন্য চক্রের সহযোগী ওসমান গাজী, টিপু ও লিটন তাকে সহযোগিতা করত। আর সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের আসাদুজ্জামানের অফিসে আনার জন্য ওসমান, টিপু ও সিরাজ দালাল হিসেবে কাজ করত। সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ব্যাংক চেক ও স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প নিয়ে নিজের কাছে রেখে দিতেন আসাদুজ্জামান। পরে এসব দিয়ে প্রার্থীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তার অস্থায়ী অফিস তালাবদ্ধ করে আবার অন্য জায়গায় অফিস ভাড়া নিতেন।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার হওয়া ওসমান আলী পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। আল আমিন নামের এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর মাধ্যমে আসাদুজ্জামানের সঙ্গে পরিচিত হন। ওসমান জাল ভিসা প্রস্তুতের কাজ করতেন। গত ৩ বছর ধরে এমন কাজ করছিলেন তিনি। প্রতিটি জাল ভিসা তৈরির জন্য ২০ হাজার টাকা পেতেন। এ পর্যন্ত তিনি ৪০-৫০টি জাল ভিসা তৈরি করেছেন। অন্যদিকে গ্রেফতার টিপু সুলতান বিভিন্ন মার্কেটে ভাসমান ইলেকট্রনিক ব্যবসা করার সুবাদে ওসমানের সঙ্গে পরিচয় হয়। লিটনের দোকান থেকে জাল ভিসা ও চাকরির বিভিন্ন নিয়োগ সংগ্রহ করে ওসমানকে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন। ৩ বছর ধরে এ কাজে জড়িত।

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার সিরাজুল ইসলাম পেশায় ঘড়ি বিক্রেতা। কাউরাইদ বাজারে ঘড়ি মেরামতের দোকান আছে। ফরিদ নামে একজনের মাধ্যমে ওসমানের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। লিটন মাহমুদ মিরপুর-১-এর কো-অপারেটিভ মার্কেটের লিটন ডিজাইন হাউসের মালিক। গত ৭ বছর ধরে মিরপুরে ব্যবসা করেছেন। তিনি জাল ভিসা ও ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরির করে সরবরাহ করতেন। এই চক্রের আরো সদস্য রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

"