এখনো ‘নিখোঁজ’ ওরা তিনজন

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া তিন ব্যক্তির এখনো কোনো হদিস মেলেনি। তারা বেঁচে আছেন, নাকি গুম হয়েছেনÑতা নিয়ে পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যারাই তাদের নিয়ে যাক, পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। ‘নিখোঁজ’ হওয়া এই তিন ব্যক্তির মধ্যে একজনের পরিবার গতকাল শুক্রবার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে তাকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছেন। ‘নিখোঁজ’ র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) হাসিনুর রহমানের সন্ধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন তার স্ত্রী শামীমা আখতার।

সংবাদ সম্মেলনে শামীমা আখতার লিখিত বক্তব্যে জানান, তার স্বামী ২৮ বছর সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ডিওএইচএস এলাকার ৪ নম্বর অ্যাভিনিউয়ের ১০ নম্বর রোডের ৬৫৯ নম্বর বাড়িতে হাসিনুর রহমান সপরিবারে থাকতেন। ৮ আগস্ট রাত ১০টা ২০ মিনিটে দুটি হাইএস মাইক্রোবাসে ১৪-১৫ জন ব্যক্তি হাসিনুরকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় জিডি করা হয়। কিন্তু আজও তার সন্ধান মেলেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তাকে খুঁজে বের করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। শামীমা বলেন, ‘সংরক্ষিত এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমার স্বামী অন্যায় করলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার করা হোক।’ গতকাল পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা জিডি তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাইনি।

উল্লেখ্য, হাসিনুর রহমান র‌্যাব-৫ ও র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বিজিবিতেও বেশ কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে চট্টগ্রামে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক ছিলেন। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করে তার সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্্রীরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়। ২০১১ সালের প্রথম দিকে তাকে র‌্যাব-৭ থেকে অব্যাহতি মাতৃবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়। পরে তিনি সেনাবাহিনীতে আরডকে যোগ দেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীর অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় তার ৫ বছরের জেল হয়। ২০১৪ সালের শেষের দিকে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান।

গত বছরের ২৫ আগস্ট ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে নিখোঁজ হন কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ইশরাক আহমেদ (২০)। তিনি ঢাকায় ছুটিতে এসেছিলেন। এই নিখোঁজ ছাত্রের বাবা তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী জামালউদ্দিন আহমেদ ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের এক বছর পরও তার কোনো সন্ধান মিলেনি। ইশরাকের বাবার আকুতি, ‘সে যেখানেই থাকুক, তাকে উদ্ধার করা হোক।’

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিকেলে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের ৮৯ নম্বর বাসা থেকে ভিয়েতনামের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে বের হন। ওই দিন বেলজিয়াম থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল তার মেয়ে সামিহা জামানের। সামিহা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে বাবার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোনটি বন্ধ পাওয়ার পর তিনি একটি ট্যাক্সিতে করে বাসায় ফেরেন। তখন থেকে মারুফ জামানের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন সামিহা ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি করেন। এ ব্যাপারে ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, ‘ইশরাক ও মারুফ জামান নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা দুটি জিডি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তাদের এখনো কোনো সন্ধান পাইনি।’

"