সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী

সততা নিয়ে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবেই

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘নিজেদের নয়, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করি বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অনেকে বলেন, উন্নয়নের পেছনে ম্যাজিক কী? আমি বলি ম্যাজিক কিছুই না সততা, নিষ্ঠা আর একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করলেই যেকোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব। তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা যদি সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করেন তাহলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৮ ও ১০৯তম আইন এবং প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ ধরনের দায়িত্বে মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রচলিত একটি ধারণা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, আমি দেখেছি কাউকে পদায়ন করলে মনে করা হয় তাকে ডাম্পিং প্লেসে ফেলা হলো। ঠিক আমি জানি না এই মানসিকতা কেন। যে কারণে যে প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে আমাকে যখনই দাওয়াত দেওয়া হয় আমি উপস্থিত হই। কারণ আমি মনে করি রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা দায়িত্ব নিতে যাবে তাদের প্রশিক্ষণটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটায় কাউকে পদায়ন করলে সে মনে করবে তাকে ডাম্পিং প্লেসে ফেলা হলো, এটা যেন কোনো মতে না ঘটে বরং যে মেধাবী, যার মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি আছে, যে নতুন চিন্তাভাবনা জাগ্রত করতে পারবে, প্রশিক্ষণ দিতে পারবে তাকেই এই পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত। যাতে আগামী দিনের কারিগররা উপযুক্ত হয়ে উঠে।’

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক থেকে দেশকে রক্ষায় কাজ করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। যে যেখানেই দায়িত্ব পালন করবেন এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন। যা একটা সমাজকে ধ্বংস করে দেয়, একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, সেটা যেন কোনো মতে না হয়। আমরা এতটুকু বলতে পারি আমরা দক্ষতার সঙ্গে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশ সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত হবে।’

কর্মকর্তাদের জন্য নেওয়া সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রমোশনের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা ছিল। জটিলতার পাশাপাশি ছিল মামলা। তারপরও আমরা ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সচিব পদে ১৮০ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ১১৫০ জন, যুগ্ম সচিব পদে ২০২৫ জন এবং উপ সচিব পদে ২৬৮৬ জনকে পদোন্নতি দিতে সক্ষম হয়েছি। এত পদোন্নতি বোধ হয় কোনো দিন কোনো সরকার এক সঙ্গে দিতে পারেনি। আমরা সেটা দিয়েছি। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সময়কালে যে পরিমাণ বেতন-ভাতা বাড়িয়েছি পৃথিবীর কোনো দেশ একসঙ্গে এত বেতন-ভাতা বাড়াতে পারে না। আমরা আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়েও যেভাবে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছি, ফ্ল্যাট ঋণ, গাড়ি কেনায় ঋণ থেকে শুরু করে নানাভাবে আমরা সুযোগ করে দিয়েছি। যেন সুন্দর একটা মানসিকতা নিয়ে দেশের সেবাটা আপনারা করতে পারেন।’

গণমাধ্যম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় অনেক পত্রিকা এটা-ওটা লেখে আর আমাদের অনেকে সেটা নিয়ে ঘাবড়ে যায়। আমি অন্তত এইটুকু বলতে পারি রাষ্ট্র পরিচালনায় আমি পত্রিকার লেখা পড়ে গাইডলাইন গ্রহণ করি না। আমি গ্রহণ করি আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা, পরিকল্পনা এবং জ্ঞান। তার কারণ দেশটা আমার। আমি জানি দেশটার জন্য কোনটা মঙ্গল। যেহেতু দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি অবশ্যই জানব কোথায় কি সমস্যা আছে, কোথায় নাই। সেটা বুঝেই কাজ করি।’

অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির মহাপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

"