ভূমিদস্যুদের হাতে ধ্বংস উখিয়ায় পাহাড় টিলা

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

উখিয়ার সর্বত্র চলছে বন ও পাহাড় ধ্বংসের হরিলুট। বন বিভাগের রক্ষিত ও সংরক্ষিত পাহাড় টিলা ধ্বংস করে, পাহাড়ি ছড়া, খাল থেকে মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন চলছে সমানে। স্থানীয় বন বিভাগের রহস্যজনক নিষ্ক্রীয়তা বা নির্বিকারের সুযোগে এলাকার ভূমিদস্যুরা অধিক উৎসাহে এই ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট বন রেঞ্জ কর্মকর্তা এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন বলে অভিযোগ। ক্ষতিগ্রস্তরা এবং সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা এজন্য বন কর্মকর্তা ও কর্মীদের দায়ী করেছেন। যদিও বন কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। সরেজমিন উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল এলাকায় সামাজিক বনায়ন উজাড় করে নির্বিচারে পাহাড় ধ্বংস করার মহোৎসব শুরু হয়েছে। সেখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল বিশাল আকারের তিন-চারটি উঁচু পাহাড়ের অস্তিত্ব বিলীন করে ফেলেছে গত দুই মাসে। ১০-১২ জন শ্রমিক কয়েকটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে পাহাড়ের একাংশ থেকে। জানতে চাইলে ওই সিন্ডিকেটের দায়িত্বশীল কামাল হোসেন নামের এক যুবক বলেন, জায়গাটি তার জোত জমির সংলগ্ন, তাই বর্ষার পাহাড় ভেঙে যাওয়ার কারণে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করছেন। কিছুদিন আগে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা এসেছিল। তারা ‘পাহাড়ের যেন ক্ষতি না হয়’, সেই দিকে নজর দেওয়ার কথা বলে চলে যায়। আর মাসের শেষে দেখা করার কথা বলেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল শামা (৬০) বলেন, সরকার ১৯৯১-৯২ সালে ওই পাহাড়ে সামজিক বনায়ন করেছিল। আমি সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী। কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর নির্বিচারে পাহাড় ধ্বংসের ফলে পাহাড়ের পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন উজাড় হয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষক মো. সোলেমান জানায় পাহাড় ধ্বংস করে তোলা বালু ও মাটি পরিবহনের কারণে তাদের জমি নষ্ট হয়ে যায়। মাটি ও বালুবাহী ট্রাকের ধুলোবালুতে সড়কের উভয় পাশে বসতবাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশুদের স্কুলে যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে বলে স্থানীয় দোকানদার ফজল করিম জানান। তারা বিষয়টি স্থানীয় বনবিভাগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে বিভিন্ন সময় বন কর্মীদের ভূমিদস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল কবির বলেন, সম্প্রতি রেঞ্জ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও বালু উত্তোলন ও মাটি পাচার বন্ধ হয়নি। পাহাড় ও টিলা কেটে বালু এবং মাটি উত্তোলন খুবই দুঃখজনক। অভিযুক্ত রাজাপালং বন বিট কর্মকর্তা আমির হোসেন গজনবী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার সঙ্গে কোনো প্রকার বালুখেকোদের সম্পর্ক বা লেনদেন নেই। তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। ইনানী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বালু উত্তোলনকারী ও মাটি পাচারকারীদের এ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। নির্দেশ না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"