সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র দুর্ভোগ হটানোর স্বপ্ন

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে, সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে পৌনে ৩ কিলোমিটার দূরে সয়দাবাদে ৫৫ একর জায়গার ওপর নির্মিত হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রকল্পটি নির্মিত হওয়ার পর এর সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠী। এর আগে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ ছিল মানুষ। সেই দুর্ভোগ আর দৃশ্যমান নয়।

সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ এলাকায় এবং মৎস্য ভান্ডার ও শস্য ভান্ডার খ্যাত চলন বিলের চাষিরা এখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেয়ে আসছেন। তারা ব্যাপক হারে কৃষি পণ্য উৎপাদনে দেশের অর্থনীতিতে অনন্য ভূমিকা রাখছেন। যার পেছনে রয়েছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

বিদ্যুৎ দুর্ভোগ নিরসনে বাংলাদেশ সরকার চীনা কোম্পানির (সিএমসি) সঙ্গে চুক্তি করেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠিকভাবে ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মাত্র ৫ বছরে ব্যবধানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকটি ইউনিট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (১ম ইউনিট), ২২৫ মেগাওয়াট সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র (২য় ইউনিট), ১৪১ মেগাওয়াট সিম্পুল সাইকেল (৩য় ইউনিট) এ উদ্বোধন করা হয়। গত ১০ অক্টোবর থেকে ২৮২ মেগাওয়াট সিম্পুল সাইকেল (৪র্থ ইউনিট) বিদ্যুৎ উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়।

৮৮৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উল্লিখিত প্রকল্পগুলো ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে ১০৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। ৪টি ইউনিট মিলে উপাদন সক্ষমতা বর্তমানে ৮৫৭ মেগাওয়াট।

এলাকার বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তি ডাঙ্গু মন্ডল, বাট্টু শেখ, ঠান্ডু তালুকদার জানায়, এর আগে সিরাজগঞ্জে বিদ্যুতের খুব ঘাটতি ছিল। আমাদের এই বিদ্যুৎ প্লান্ট উদ্বোধন করার পরে আমাদের সিরাজগঞ্জে কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। আমরা কৃষি, তাঁত শিল্পসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাপক বিদ্যুৎ সহায়তা পাচ্ছি। আগের মতো আর আমাদের বিদ্যুৎ হয়রানিতে ভুগতে হয় না।

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পিযূষ ভট্টাচার্য্য, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণপদ মালো, প্রধান প্রকৌশলী (প্লান্ট ম্যানেজার) সিরাজগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রকৌশলী হারুন আর রশিদ প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগণ আছে ৯১ শতাংশ। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর আওতায় আসবে। এবং এই সফলতা অর্জনে পাওয়ার প্লান্ট একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সিরাজগঞ্জ পাওয়ার হাবে ৮৮৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উন্নিত হয়েছে। যার ফলে সিরাজগঞ্জে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১০৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হাব থেকে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করায় অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকে মুক্তি পেয়েছে সিরাজগঞ্জ তথা উত্তর বঙ্গের জনগণ। স্থানীয় কুঠির শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সর্বক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। আর বাংলাদেশে অগ্রগতি ও উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

 

"