টঙ্গীতে ওলামা মাশায়েখদের সংবাদ সম্মেলন

প্রশাসনের ইন্ধনের অভিযোগ সাদপন্থিদের বিচার দাবি

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

বিশ্ব ইজতেমায় হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে সাদপন্থীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন টঙ্গীর ওলামা মাশায়েখ ও তাবলিগের সাথীরা। টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় বর্বরোচিত হামলায় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হকপন্থী আলেমরা। তাদের অভিযোগ, তাবলিগ জামাতের ‘স্বঘোষিত’ আমির মাওলানা সাদের পদস্খলন ঘটেছে। তিনি কোরআন-সুন্নাহর প্রকৃত আকিদায় ফিরে আসা না পর্যন্ত তাবলিগ জামাতে তার কোনো কর্তৃত্ব ও অংশগ্রহণ মেনে নেয়া হবে না।

‘আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি কাজে অংশগ্রহণকারী তাবলিগী সাথী ও নিরীহ মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর গত ১ ডিসেম্বর ওয়াসিফ-নাসিমপন্থী সন্ত্রাসীদের নগ্ন হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে’ গতকাল বুধবার টঙ্গী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ‘টঙ্গীর ওলামা মাশায়েখ ও তাবলিগের সাথীরা’ এমন অভিযোগ করেন। তারা বলেন, ‘ইজতেমা ময়দানে নিরীহ মাদ্রাসা ছাত্র ও তাবলিগের সাথীদের ওপর হামলার সময় প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নীরব ও রহস্যজনক। পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।’ গেট ভেঙে হামলাকারীদের ভেতরে প্রবেশে সহায়তা করা হয়েছে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত

দিয়ে অভিযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে মাওলানা আবু বকর বলেন, এর আগে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ময়দানের দায়িত্বরত মুরব্বিদের কথা দিয়েছিলেন যে, আপনারা আপনাদের মতো ভেতরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করুন, আমরা বাইরে আছি। বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না, আমরা দেখব। তাদের (সাদ অনুসারীরা) জোড় স্থগিত করা হয়েছে, তাদের কেউ আসবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখা গেল ভিন্ন। সারা দেশ থেকে এসব হাজার হাজার সাদের অনুসারী ওয়াসিফ ও নাসিমের নির্দেশে উত্তরা ও টঙ্গীতে একত্রিত হলো এবং ফজরের সময়ই চারদিকে থেকে ময়দান ঘেরাও করল কীভাবে? জাতি এর জবাব জানতে চায়।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবিতে বলা হয়Ñ ১. ইজতেমা ময়দানে হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিকুল ইসলাম ও সাহাবুদ্দিন নাসিমসহ টঙ্গী ও উত্তরা থেকে নেতৃত্বদানকারী এবং হামলার সঙ্গে জড়িত সবাই অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ২. হামলায় আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. টঙ্গী ইজতেমা ময়দান এত দিন যেভাবে শূরাভিত্তিক তাবলিগের সাথী ও ওলামায়ে কেরামের অধীনে ছিল তাদের হাতেই ইজতেমার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করতে হবে। ৪. অতিসত্তর কাকরাইলের সব কার্যক্রম হতে ওয়াসিফ ও নাসিম গংদের বহিষ্কার করতে হবে। ৫. সারা দেশে ওলামায়ে কেরাম ও শূরাভিত্তিক পরিচালিত তাবলিগের সাথীদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ৬. আগামী বিশ্ব ইজতেমা পূর্ব ঘোষিত ১ম ধাপ ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ২০১৯ এবং ২য় ধাপ ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি ২০১৯ অনুষ্ঠানের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এসব দাবিতে আগামী ৭ ডিসেম্বর বাদ জুমা টঙ্গীর সব মসজিদ ও এলাকা থেকে তৌহিদী জনতার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দাবি বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ হলে আরো কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী জামিয়া নূরীয়া ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা জাকির হোসাইন, টঙ্গী দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মাসউদুল করীম, টঙ্গী বায়তুল আকরাম মসজিদ ও মাদরাসা কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা ইউনুস শাহেদী, টঙ্গীর সাতাইশ জামিয়া উসমানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মুফতি মুহাম্মদ আবু বকর কাসেমী, মাওলানা ইসমাইল আলমগীর, মাওলানা আবদুর রাকিব আকন্দ, মুফতি মুহাম্মদ ইয়াকুব, মাওলানা কেরামত আলী, মাওলানা ইকবাল মাসুম, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মল্লিক, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক, আবু উবাইদা, তারেক মাহমুদ, আবদুস সাত্তার প্রমুখ।

 

"