ধর্মঘটে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে রুল

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

পরিবহন শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টা কর্মবিরতির সময় অ্যাম্বুলেন্স ‘আটকের কারণে’ মৌলভীবাজারের বড়লেখা সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের ৭ দিনের শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল হালিম। চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় মৃত্যু নবজাতকের’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের পক্ষে রিট করা হয়। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সচিব, বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মৌলভীবাজার বড়লেখা থানার ওসি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা পরিবর্তনের দাবিতে ২৮ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এ কর্মবিরতি চলাকালে সাধারণ চালক, শিক্ষার্থীদের শরীরে পোড়া মবিল লাগিয়ে দেন শ্রমিকরা। এমনকি মৌলভীবাজারে অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

২৯ অক্টোবর ওই দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ‘আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিকরা দাবি আদায়ের নামে মুমূর্ষু এক নবজাতককে বহনকারী গাড়ি আটকে দেওয়ায় সময় মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পথেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে সাত দিন আগে পৃথিবীর আলো দেখা শিশুটি।

২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটি বড়লেখা সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের কুটন মিয়ার মেয়ে। ৭ দিন আগে জন্ম নেওয়া শিশুটির নাম তখনো রাখা হয়নি।

নিহত শিশুটির চাচা আকবর আলী বলেন, রাত থেকে শিশুটি কোনো কিছু খাওয়া-ধাওয়া করছিল না, শুধু কাঁদছিল। সকালে শিশুটিকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত সিলেট নেওয়ার জন্য বলেন। চিকিৎসকের কথা মতো শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দিই।

"