বামদের ইশতেহারে ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধের স্লোগান

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এলে স্বাধীনতাবিরোধী ও ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট। একই সঙ্গে দল-মত নির্বিশেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত রাখার বিধান সংবিধানে ফেরানোসহ প্রায় ৩১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রেখে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করেছে আট বামদলের এই জোট। গতকাল সোমবার জোটের ইশতেহার কমিটির বৈঠকে খসড়া ইশতেহার চূড়ান্ত হয়েছে। ৭ বা ৮ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে বামজোট। বাম গণতান্ত্রিক জোটের খসড়া ইশতেহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ছয় হাজারেরও বেশি শব্দে বিস্তারিত ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে সংক্ষিপ্তরূপে একটি ইশতেহার কপিও তৈরি করবে বামজোট। ‘গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়, দুর্নীতি-লুটপাট-দলীয়করণ, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও জনদুর্ভোগ লাঘব, ধনী-গরিব বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে : মহাজোট-জোটের বাইরে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তুলুন’ শীর্ষক সেøাগানে ইশতেহার করা হয়েছে।

বামজোটের ইশতেহার তৈরির কাজে নিযুক্ত দায়িত্বশীল নেতারা জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংবিধান ও রাজনীতির সংস্কার করা হবে। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা, সশস্ত্র বাহিনীর সব কার্যক্রম জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ রাখা, ঘুষ, দুর্নীতি, বন্দুকযুদ্ধ বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও বেতার-টিভিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি থাকছে।

ইশতেহারের ভূমিকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা, প্রহসনের নির্বাচনের পাঁচ বছর পর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের এক সার্বিক ও গভীর সংকটের প্রেক্ষাপটে অবশেষে বহু প্রত্যাশিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশে গণতন্ত্র বিকাশের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু গত ২৮ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াতকেন্দ্রিক সরকার পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা দেশে বুর্জোয়া গণতন্ত্রের বিধিবিধান, নীতিনৈতিকতা, মূল্যবোধ কার্যকর করতে পারেনি।’

ভূমিকার এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘বাতিল করার সব সুযোগ থাকার পরও সরকার সংবিধানের দ্বিতীয় ও অষ্টম সংশোধনী, প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক অগণতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর সব অগণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তাবিরোধী ধারা ও সংশোধনীগুলো বহাল রেখেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে রাপ্রের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ও চরিত্র বিপজ্জনকভাবে প্রসারিত হচ্ছে।’

বামজোটের ইশতেহারে জোর দেওয়া হয়েছে মানুষের বাক স্বাধীনতার ওপর। প্রতিশ্রুতি-পর্বে বলা হয়েছে, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’সহ মৌলিক অধিকার খর্বকারী সব নিবর্তনমূলক কালাকানুন বাতিল করা হবে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংস্কার করে গণপ্রচার মাধ্যমসমূহের ওপর জনগণের কার্যকর গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাসহ বেতার-টিভিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশতেহারে। এ ছাড়া স্থায়ী বিশ্বশান্তি ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য দৃঢ় ও সক্রিয় প্রচেষ্টা চালানোর বিষয়টিও যুক্ত থাকবে।

"