প্রতিবন্ধকতার মুখেও ২ বছরে উবার

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় দুই বছর পার করেছে আন্তর্জাতিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার। বিদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্য দেশে যে ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিল উবার, বাংলাদেশে এমন কোনো জটিলতা হয়নি। অনুমোদনহীনভাবে টানা দুই বছর চললেও তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো প্রাইভেট কারে রাইড শেয়ারিং নামিয়ে দ্রুত ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় উবার। পরে উবারের পথ ধরে আরো অনেক কোম্পানি নামে। তবে ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উবারকে ঘিরে। এমনকি বেশ কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িত হিসেবে উবারের নাম এসেছে। উবার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক গ্রুপ রয়েছে। যেখানে ব্যবহারকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। এসব গ্রুপে উবার ব্যবহার করে তিক্ত অভিজ্ঞতা চোখে পড়ার মতো। উবার শুরুর কয়েক মাসের মধ্যে বনানীতে আলোচিত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। যে ঘটনায়

পরিবহন হিসেবে উবার ব্যবহৃত হয়েছিল। যা পরে পুলিশ প্রতিবেদনেও দেখা যায়।

উবারে যৌন হয়রানির একাধিক ঘটনা ভিডিওসহ দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এসব ঘটনার পরও উবারকে কোনো আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে হয়নি। এমনকি নানা অভিযোগ তুলে উবার থেকে বেরিয়ে গেছেন তাদের আইকনিক ড্রাইভার। সর্বশেষ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থেকে রেহাই পায়নি উবার। দেশীয় প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বহু মানুষÑ এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

এসব জটিল পরিস্থিতি ঘটিয়ে উবার বাংলাদেশকেই তাদের সেরা মার্কেট বলে ঘোষণা দিয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক দেশের রাইড শেয়ারিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলছে। এখনো কার্যত তাদের সেবাটি দেশে অবৈধভাবে চলছে।

এ প্রসঙ্গে গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ শামসুল হক বলেন, দেশে যে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে তাতেই গলদ রয়ে গেছে। সাধারণত এ রকম নীতিমালায় বিদেশি কোম্পানিকে বেশি শর্ত দেওয়া হয়। দেশীয় কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়। বর্তমান নীতিমালায় এমনটা নেই।

রাইড শেয়ারিং বিশ্লেষক মুরাদ শুভ বলেন, উবার সাময়িক সমাধান হলেও যানজটের কারণ হয়ে যাচ্ছে ঢাকায়। কারণ এক গাড়িতে একাধিক ব্যক্তি শেয়ার করে যাওয়ার বিপরীতে উবারে নতুন নতুন গাড়ি যোগ হয়ে ট্রিপ দিচ্ছে। যে গাড়ি আগে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে গিয়ে পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকত এখন সেটি অনবরত রাস্তায় চলছে। এদের পার্কিং না থাকায় মূল সড়কে যানজটের কারণ হচ্ছে।

মুরাদ পরামর্শ তুলে ধরে বলেন, বিআরটিএ’র মাধ্যমে তাদের ঢাকার উপযোগী রাইড শেয়ারিং সেবায় আনা যেত। যেমনÑ কার পোলিং চালু করতে তাদের শর্ত দেওয়া যেতে পারে। যাতে একই প্রাইভেট কারে একাধিক ব্যক্তি যেতে পারবেন। আর রাস্তায় নতুন প্রাইভেট কারগুলোকে এ সেবায় নামানো বন্ধ করে দিতে হবে।

বিআরটিএ’র রাইড শেয়ারিং সেল জানায়, উবার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সব তথ্য দেয়নি। যে কারণে তাদের অনুমোদন এখনো গৃহীত হয়নি।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জানান, বর্তমান নীতিমালার সীমাবদ্ধতা মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে তারা চিঠি দিয়েছেন। এ নীতিমালায় আরো কিছু যোগ হতে পারে, সংশোধনও পরে হতে পারে। এখন যে শর্তাবলি আছে তা মেনেই নিবন্ধন করতে হবে। আর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বিদেশি কোম্পানির জন্য আলাদা শর্তারোপ করা যেতে পারে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশে উবারের আঞ্চলিক প্রধান কাজী জুলকারনাইন জানান, উবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয় না। ই-মেইলে প্রশ্ন পাঠালে পরে উত্তর দেবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, দুই বছর পূর্তির পর এক আয়োজনে উবার সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করে জানায়, গত দুই বছরে উবারের চালকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখের বেশি। বিগত সময়ে গড়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই হাজার নতুন চালক উবারে সাইনআপ করেছেন।

এতে বলা হয়, দুই বছরে ঢাকা শহরের ২২ শতাংশ মানুষ অন্তত একবার উবার অ্যাপ ব্যবহার করেছে। প্রতি মিনিটে গড়ে ১৫৫ বার উবার অ্যাপে প্রবেশ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি যাওয়া (রাইড) হয়েছে বিমানবন্দর, গুলশান-১ ও বসুন্ধরা সিটিতে। বাংলাদেশে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা হিসেবে উবার যাত্রা শুরু করে ২০১৬ সালে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি প্রথম চালু হয়।

"