ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা তেঁতুলগাছ

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নুরুন্নবী (নুরু), বদরগঞ্জ (রংপুর)

প্রকৃতি থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাপক ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ তেঁতুল। যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ নানা রোগ নিরাময়ে তেঁতুল থেকে ভেষজ উপায়ে ওষুধ তৈরির মাধ্যমে তা সেবন করে সুস্থ হয়ে আসছে। অনেকে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ব্যয়বহুল আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন না। তাদের অনেকের চিকিৎসার ভরসা তেঁতুলগাছ। স্বল্প সময়ে বহুমুখী রোগ নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী গাছের নাম হলো তেঁতুল। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন করে চারা রোপণের উদ্যোগের অভাবে এ ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদটি আজ বিলুপ্তির পথে।

উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম ঞধসধৎরহফঁং রহফরপধ (টামারিনডাস ইন্ডিকা)। ভেষজবিদদের মতে, রোগ প্রতিকারে অনেক পদ্ধতিতে তেঁতুল ব্যবহার করা যায়। রক্তে কোলেস্টেরল কমানোর কাজে বর্তমানে তেঁতুলের আধুনিক ব্যবহার হচ্ছে। নিয়মিত তেঁতুল খেলে শরীরে মেদ জমতে পারে না। তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকার কারণে খাবার হজমেও এটি দারুণ সহায়ক। পেটের বায়ু ও হাত-পা জ্বালাতে তেঁতুলের শরবত খুবই উপকারী। পেটের অম্ল, মাথাব্যথা, ধুতরা ও কচুর বিষাক্ততা থেকে রক্ষা পেতে তেঁতুল ফলের শাঁসের শরবত খেলে শতভাগ সুফল পাওয়া যায়। এভাবে নিয়মিত খেলে প্যারালাইসিস আক্রান্ত অঙ্গের অনুভূতি ফিরে আসে। এসব উপকার পেতে সরাসরি না খেয়ে পুরনো তেঁতুলের তিন-চারটি দানা এককাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে লবণ অথবা চিনি দ্বারা সেবন অত্যাধিক নিরাপদ। তেঁতুলগাছের ছালের চূর্ণ ব্যবহার করে হাঁপানি, চোখ জ্বালাপোড়া ও দাঁত ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তেঁতুল পাতা সিদ্ধ করে ছেঁকে সেই পানি জিরার সঙ্গে খেলে আমাশয় ভালো হয়। মুখের ভেতরের ক্ষত সারাতে তেঁতুলপাতার সিদ্ধ পানি মুখে নিয়ে দুই-তিন দিন চার-পাঁচবার গড়গড়া করলে আরোগ্য পাওয়া যায়। একই পানি দ্বারা শরীরের যেকোনো নতুন ও পুরনো ক্ষতস্থান ধুয়ে দিলে ক্ষতস্থান দ্রুত শুকিয়ে যায়। তেঁতুলের ঔষধি গুণাগুণ ছাড়াও যাবতীয় মুখরোচক খাবার তৈরিতেও এর জুড়ি মেলা ভার।

কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তার সঙ্গে। তিনি জানান, যদি এই ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদটিকে সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ, চারা রোপণের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা না যায় তাহলে একদিন হয়তো বা প্রকৃতি থেকে এই চিরচেনা তেঁতুল গাছটি হারিয়ে যাবে।

"