যাত্রীবেশে ডাকাতি-অপহরণ চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরার আবদুল্লাপুর-আশুলিয়া সড়কে যাত্রীবেশী সংঘবদ্ধ ডাকাতি ও অপহরণকারী চক্রের হোতাসহ ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড গুলি, ২টি বাস, ১টি ছুরি, ২টি চাকু, ২টি চাপাতি, ৯টি মোবাইল ফোন ও ৫৫০ টাকা জব্দ করা হয়। গত শনিবার রাত পৌনে ১২টায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- মো. ইমরান, জিহাদ আলী, শান্ত হোসেন, রকিবুল হাসান, রাকিবুল ইসলাম, নাঈম মিয়া, জুলহাস হোসেন, বাবুল হোসেন ও হাবিবুর রহমান।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান গতকাল রোববার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া শাখায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ একটি অপহরণ চক্রের সদস্য। যাত্রীবেশে তারা যানবাহনে উঠে যাত্রীদের অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণ আদায় ও নারী যাত্রীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন।

কমান্ডার মুফতি মাহমুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানায়, প্রতিটি অপহরণের ঘটনায় তাদের দলে ১০-১৫ জন লোক থাকে। ৯-১০ জন সাধারণ যাত্রীবেশে গাড়িতে থাকে। তারা মূলত রাত ৮টার পর অপরাধকর্ম করে থাকে। ২-১ জন যাত্রী বাসে উঠার পর তারা বাসের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে কোনো নির্জন স্থানে নিয়ে যাত্রীদের মারধর করে টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিত। আটক করা ১টি বাস (আসমানী পরিবহন) নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকে উত্তরা-আব্দুল্লাপুর চলাচল করে। অপরটি মৌমিতা পরিবহন) নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত চলাচল করত।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, অনেক সময় যাত্রীকে নির্মমভাবে মারধর করে গাড়িতে জিম্মি করে রাখত। পরে জিম্মি করা যাত্রীর মুঠোফোন ব্যবহার করে স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে। মুক্তিপণ আদায় হলে জিম্মিকে কোনো নির্জন রাস্তায় ফেলে দিত। এ ছাড়া সাভার, আশুলিয়া, চন্দ্রা ও গাজীপুরের বিভিন্ন নির্জন রাস্তায় নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি করত বলেও তারা স্বীকার করেছে।

"