প্রতি বছর ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ পাবেন ৫ জন

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য পাঁচটি ক্ষেত্রে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ পদক দিতে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ সমাজকল্যাণ পদক নীতিমালা-২০১৮’-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

এদিকে, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শাহরিয়ার শহীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন দ্বিতীয়বারের মতো ‘ইউনেসকো-আমির জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ পুরস্কার’র আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ডের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম বিষয়ে জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অটিজম বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য সায়মা ওয়াজেদ সম্প্রতি পুনরায় নেতৃত্ব লাভ করেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এখানে মাদার অব হিউম্যানিটি বলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোঝানো হচ্ছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি (মানবতার জননী) খেতাবে ভূষিত করেছিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক টেলিভিশন ‘চ্যানেল ফোর’। এ উপাধি পাওয়ায় একই বছর ১৬ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সেই উদ্যোগকে সামনে রেখে দেশে চালু হচ্ছে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক’।

এদিকে, সূত্র জানায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউমিনিটি সমাজকল্যাণ পদক’ নামে এ পদক দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। তবে পদকের নামের প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার নাম থাকার দরকার নেই। নাম কেউ মনে রাখে না। বঙ্গবন্ধু এ দেশ স্বাধীন করেছেন, তার চেয়ে জনপ্রিয় কেউ ছিলেন না। কিন্তু এ দেশের কিছু মানুষ তাকে মেরেছে। যারা একসময় আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, এ দেশের কতিপয় বুদ্ধিজীবী এখন তাদের সঙ্গে চলে গেছেন। অন্য পুরস্কার নীতিমালার মতোই এ পুরস্কারের নীতিমালা উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পাঁচটি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেওয়া হবে। বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত মহিলাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে অবদান; প্রান্তিক, অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা, আত্মনির্ভরশীলকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি; প্রতিবন্ধী ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণ, জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, ইনক্লুসিভ শিক্ষা বাস্তবায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান; সুবিধাবঞ্চিত আইনের সংস্পর্শে আসা আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু, কারামুক্ত কয়েদি, ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তিদের কল্যাণ, উন্নয়ন ও পুন-একত্রীকরণ এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এমন কোনো কর্ম, যা সমাজের মানুষের মেধা ও মননের বিকাশ, জীবনমান ও পরিবেশের উন্নয়ন, সমাজবদ্ধ শারীরিক ও মানসিক স্বার্থ্যরে উন্নয়ন ও সর্বোপরি মানবকল্যাণ ও মানবতাবোধে সমাজ বা রাষ্ট্রকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার কার্যক্রমে অবদানের জন্য পদক দেওয়া হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ পাঁচটি সেক্টরে সমাজকল্যাণ পদক দেওয়া হবে পাঁচ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে। প্রতি বছর ২ জানুয়ারি সমাজকল্যাণ দিবসে পদক দেওয়া হবে। ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম স্বর্ণ দিয়ে তৈরি একটি পদক; ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ সমাজকল্যাণ পদকের একটি রেপ্লিকা; ব্যক্তিপর্যায়ে দুই লাখ এবং দফতর/সংস্থা পর্যায়ে দুই লাখ টাকার চেক ও সম্মাননা সনদ দেবে সরকার। এ পদক জাতীয় অন্যান্য পদক যেমন স্বাধীনতা পদকের মতো একই রকম বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং জাতীয় পর্যায়ে সর্ব জ্যেষ্ঠ মন্ত্রিপর্যায়ে গঠিত কমিটি পুরস্কারপ্রাপ্তদের নির্বাচিত করবে। আগামী জুলাই থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

"