জয়পুরহাটে জিবিএসের প্রাদুর্ভাব : ৫ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটে গুলেন ব্যারি সিনড্রোম (জিবিএস) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা

দিয়েছে। তিন মাসে জেলায় এ রোগে আμান্ত হয়েছেন শিশু ও নারীসহ ১১

জন। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুও হয়েছে। হঠাৎ করেই এ

রোগের প্রাদুর্ভাবে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য

অধিদফতর থেকে আসা একটি মেডিকেল টিম আμান্তদের চিকিৎসা এবং

সচেতনতা তৈরিতে কাজ শুরু করেছে।

জিবিএস একটি জীবাণু সংμমণজনিত রোগ। জীবাণু-প্রতিরোধী ইমিউন

সিস্টেমের অস্বাভাবিক আচরণের ফলে ‘ক্যাম্পাইলো ব্যাকটর জেজুনি’ নামে

একটি ব্যাকটেরিয়ার আμমণে জিবিএস দেখা দেয়। ক্যাম্পাইলো ব্যাকটর

জেজুনিতে আμান্ত ডায়রিয়া রোগী বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আμান্ত সর্দি-

জ্বরের রোগীরা পরবর্তী পর্যায়ে জিবিএসে আμান্ত হয়। রোগী হঠাৎ করে

প্রমে দুই পায়ে দুর্বলতা বোধ করে, যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং

উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এই দুর্বলতা μমে মেরুদ-, দুই হাত,

বুক ও মুখের মাংসপেশিতে ছড়িয়ে পড়ে। বুকের মাংসপেশির দুর্বলতার

কারণে শ্বাসকষ্ট হলে রোগীকে আইসিইউ বা ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে’

স্থানান্তর করতে হয়। অন্যথায় রোগী মারাও যায়।

জয়পুরহাট সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ রোগে আμান্ত

হয়ে গত ৯ অক্টোবর জেলা শহরের বারিধারা মহল্লার দিবাকর ম-লের

পুত্রবধূ পিংকি রানী সাহা (২৪), ২৭ অক্টোবর সদর উপজেলার দড়িপাড়া

গ্রামের আবদুল হাকিম, ৩ নভেম্বর সদরের মাধাই নগর গ্রামের শুকানপুকুরের তাহমিদ জামান ও আক্কেলপুর উপজেলার মাস্টার পাড়া মহল্লার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মারুফ হোসেন এবং ৭ নভেম্বর জয়পুরহাট সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন মারা যান। এ ছাড়া জেলার পাঁচবিবি পৌর শহরের দমদমা মহল্লার শহিদুল ইসলামের ছেলে জিহাদ হাসান (১৭), শহরের থানা রোডের বাসিন্দা দীপক চাকীর মেয়ে বনশ্রী চাকী (৩০), সবুজ নগর মহল্লার মনছুর আলী শাহীনের স্ত্রী ফেরদৌসি বেগম, জয়পুরহাট সদরের হানাইল মাদরাসা পাড়ার বাসিন্দা ওসমান গণির ছেলে বাজলুর রশিদ (২৩), জয়পুরহাট-২ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমানের স্ত্রী থানা রোডের বাসিন্দা নাজমুন নাহার ফেন্সি এবং জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোঁগাছী ইউনিয়নের শিমুলতলী গ্রামের রোমান হোসেনের শিশু সন্তান নাফিউলও (৩) এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ রোগে আক্রান্ত জয়পুরহাট শহরের সাহেবপাড়া মহল্লার বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক দিলদার হোসেন (৫০) জানান, ৩১ অক্টোবর বিকেলে তিনি তার চেম্বারে বসে চিকিৎসা দেওয়ার সময় বাম হাতের চারটি আঙ্গুল অবশ হয়ে আসে। পরের দিন সকালে ডান হাত, দুই পাসহ কোমর অবশ হয়ে গেলে ঢাকার খাজা ইউনুস আলী হাসপাতালে ভর্তি হন। আর সেখানেই তিনি জিবিএস রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। বর্তমানে তাকে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধপত্র সেবন আর হাত-পায়ের ব্যায়াম করানো হচ্ছে। এতে তিনি ধীরে ধীরে ভালো হয়ে উঠছেন।

এদিকে, এ রোগ থেকে পুরোপুরি ভালো হওয়ার পর জয়পুরহাট শহরের পূর্ব বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, রোগটি হঠাৎ করেই আক্রমণ করে। তবে যথাসময়ে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, চললে এ রোগ থেকে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করা যায়। জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার রেজা জানান, জিবিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি লাখে একজন রোগী মারা যেতে পারে। কিন্তু জয়পুরহাটে একবারে এতো রোগী শনাক্ত হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আসা একটি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে হঠাৎ করেই কী কারণে এর বিস্তার হলো। তবে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে এলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। তাই এ রোগ নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর কোনো কারণ নেই।

 

"