সুন্দরবনের রাসমেলা ঘিরে উৎসবের ঢেউ

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

সুন্দরবনের সাগরচরের রাসমেলা শুরু হবে আগামী বুধবার (২১ নভেম্বর) থেকে, চলবে শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) পর্যন্ত। তিন দিনব্যাপী এই মেলাকে ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি। প্রতি বছরের মতো এবারো কার্তিক ও অগ্রহায়ণের শুক্লাপক্ষের এই আয়োজন হবে সুন্দরবনের সাগর দ্বীপে আলোর কোলে। পার্থিব জীবনের কামনা-বাসনা পূরণ ও পাপমোচনের জন্য সুন্দরবনের শেষ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের তীরে দুবলার দ্বীপে এক নিবিড় পরিবেশে হাজির হবেন সনাতন সম্প্রদয়ের মানুষ। যোগ দেবেন অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভ্রমণপিপাসুরাও। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র¯œান করে পূত পবিত্র হয়ে ভগবানের কাছে কায়মনোবাক্যে আরতি জানাবেন তারা।

এ মেলাকে ঘিরে উপকূলবর্তী মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মেলায় যাওয়ার জন্য নৌ বিহারের আয়োজন করেছেন অনেকে। জনমানব শূন্য দ্বীপটি মুখরিত হয়ে ওঠে এ সময়। কার্তিক অগ্রহায়ণের শুক্লাপক্ষে এক অভিনব দৃশ্যের অবতারণা হয়।

এ বছর রাস মেলাকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের উদ্যোগ বনজ সম্পদ রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। এরই মধ্যে সব রকমের প্রস্তুতি সম্পন্ন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবু সালেহ বলেন, রাস মেলায় নির্বিঘেœ যাতে তীর্থযাত্রী ও দর্শনাথীরা যেতে পারে তার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে টহল কার্যক্রম চালাবে।

এ সময় তীর্থযাত্রী ও ভ্রমণকারীরা ট্রলার, লঞ্চ ও নৌকায় রান্না ও আহার করে থাকেন। সাগরের বালু চরে এবং বনের ভেতরে নির্ভয়ে চলাফেরা করেন। শত শত নৌকা, ট্রলার ও লঞ্চের সমাগমে নিভৃত জায়গাটি তখন আলোকমালায় সেজে ওঠে। সেই সঙ্গে জ্যোৎ¯œা রাতে সাগর আর বনের মিলনস্থলটি উপভোগ করেন পুণ্যার্থী ও ভ্রমণপিপাসুরা।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় তীর্থযাত্রীরা সাগর ¯œানে নেমে পড়েন। নাগরিক জীবনের কোলাহলমুক্ত অভূতপূর্ব মনোরম পরিবেশ দুই দ-ের জন্য হলেও ঘুচিয়ে দেয় জীবনের যাবতীয় ক্লেদ। লোকালায় থেকে নানা ধরনের ফল-ফলাদি, মিষ্টান্ন দ্রব্যের পশরা নিয়ে বসে ব্যবসায়ীরা।

পাপ মোচন কিংবা সন্তানাদি জন্মগ্রহণ না করলে ধর্মভীরু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকরা দুবলার মেলায় মানত করেন। দেবতা নীল কমল ও গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকরা প্রার্থনা করেন। পূজা পার্বণ আরতি বাদ্য নৃত্যগীতসহ নানা অনুষ্ঠানে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। ঢেউ সেবনের সময় মন্ত্রাদি উচ্চারণ করে পাঁঠা, ফল ও মিষ্টি সাগরে নিক্ষেপ করতে দেখা যায় ভক্তদের।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল-আল-মামুন বলেন, সাগর মেলার দর্শনার্থীদের ২১ নভেম্বর সকালের জোয়ারের আগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় ছাড়া কোনো দর্শনার্থী সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবে না।

"