আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

নগরায়ণ, জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে ঝুঁকি বাড়ছে

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

পাঠান সোহাগ

নগরায়ণ, পরিবর্তিত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রতিটি পরিবারেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে। আর যেসব পরিবারে ডায়াবেটিস আছে তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত গর্ভকালীন নারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশসহ পৃথিবীতে এমন কোনো পরিবার নেই, যেখানে অন্তত একজন ডায়াবেটিস রোগী অথবা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নেই। এক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে শহরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রামেও বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে শহরে ১০ ভাগ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। অন্যদিকে গ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা আট ভাগ। আরো ১০ শতাংশ লোক ডায়াবেটিস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে, এমন পরিস্থিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসটি পালন করা হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডায়াবেটিস প্রতিটি পরিবারের উদ্বেগ’।

সচেতনতার অভাবে দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত প্রতি দুজনের একজন ব্যক্তি শনাক্তের বাইরে থাকছেন। প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিকভাবে সচেতনতা দরকার। এমনটাই ধারণা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফেডারেশনের (আইডিএফ) ডায়াবেটিস এটলাস ২০১৭ এর অষ্টম সংস্কারই অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪২ কোটিরও বেশি। আগামী ২০৪০ সালের এটি ৬৪ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে বর্তমানে বাংলাদেশে এ রোগীর সংখ্যা ৭৩ লাখের বেশি। যাদের অর্ধেকই নারী অথচ আক্রান্ত নারী-পুরুষদের অর্ধেকই জানে না তাদের ডায়াবেটিস আছে। এ ছাড়া ১০০ জনের মধ্যে ২০ গর্ভকালীন নারীই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আর একবার আক্রান্ত হলে পরবর্তী গর্ভধারণের সময় ৬৫ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাদের পরবর্তীতে ৫০ শতাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার শঙ্কা থাকে। এসব মায়ের জন্ম নেওয়া শিশুদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নারীদের মধ্যে এ হার ২৫ শতাংশ। পৃথিবীতে প্রতিদিন প্রায় ৮৩০ জন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিরোধযোগ্য জটিলতায় মারা যান। এদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ মায়ের মৃত্যু ঘটে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

বর্তমানে দেশে অর্ধেক রোগীই জানেন না তারা ডায়বেটিসে আক্রান্ত। তাদের মাত্র ২৫ ভাগকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে পেরেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। একজন ডায়াবেটিস রোগীর গড় খরচ ২,০০০ টাকা।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ডায়াবেটিস এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি প্রতিরোধযোগ্য। আক্রান্ত রোগীদের জন্য ইনসুলিন প্রয়োজন। আমরা প্রতি বছর বিনামূল্যে সাড়ে ১১ কোটি টাকার ইনসুলিন ফ্রি দিয়ে থাকি। ডায়াবেটিসে সব ওষুধ সহজলভ্য করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ নির্ণয়, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত ওষুধ না কেনার ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীরা পিছিয়ে। এ কারণে তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না এবং পুরুষদের তুলনায় মৃত্যুর হার বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হচ্ছে বাল্যকাল থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত খেলাধুলা, পরিমিত ব্যায়াম, নিয়মিত হাঁটা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। শারীরিক পরিশ্রম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, মানসিক প্রশান্তি, ধূমপান বর্জন, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা, রক্তচাপ পরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন সম্পর্কিত চেকআপ ইত্যাদির মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

বারডেম হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক জাফর আহমেদ লতিফ বলেন, এবারের বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে বাডাসের নিয়মিত কর্মসূচি ছাড়াও সারা দেশে ৮০০টি নির্দিষ্ট জায়গায় বিনামূল্যে এক লাখ লোকের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হবে। সব মসজিদ, মন্দির, গির্জায় ‘হেল্থ কর্নার’ খোলার পরিকল্পনা করছে বাডাস।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে আজ সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে টিএসটি মোড় পর্যন্ত র‌্যালি শেষে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে বিনামূল্যে হৃদরোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দান করা হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় বারডেম অডিটোরিয়ামে রোগী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব, একইস্থানে দুপুর ১২টায় আলোচনা সভা হবে। এ ছাড়া বাডাস সমিতির উদ্যোগে দিনব্যাপী জাতীয় জাদুঘর, ধানমন্ডি রবীরন্দ্র সরোবর, এনএনএইচএন ও এইচসিডিপির বিভিন্ন কেন্দ্র সংলগ্ন স্থানে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয় ও ১৬ নভেম্বর সকাল ১০টায় পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

 

"