আওয়ামী লীগে একাধিক বিএনপিতে একক প্রার্থী

জামায়াত-জাসদও মাঠে

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মকাণ্ডে সরগরম উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের রাজনীতির মাঠ। হাট-বাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্টে ও পাড়া-মহল্লার দোকানে-আড্ডাখানায় চলছে নির্বাচনী উত্তাপ। এরই মধ্যে প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দিলেও প্রতীক পাওয়া নিয়ে আছে জল্পনা-কল্পনা। এ আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপিতে একক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থী একাধিক। ফলে শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৪ জন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রতিপক্ষহীনভাবে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। এদিকে হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। তবে জোটগত বা এককভাবে হোক বিএনপিকে ছাড় দিতে রাজি নয় জামায়াত। দলীয় প্রতীকে তারা নির্বাচন করতে না পারলেও স্বতন্ত্রভাবে লড়েও জয় পেতে পারে এমনই বিশ্বাস তাদের। দলটি বলছে, দলের কঠিন মুহূর্তেও উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে বিএনপি-আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত সমর্থিতরা। জামায়াতের নীরব ‘ভোটব্যাংক’ এ আসনে প্রার্থী হবেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমির কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের। নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণের বিষয়টি এত দিন দোলাচলে থাকলেও প্রচারণা চালিয়ে গেছেন প্রার্থীরা। এ আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ইনুর সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগামী নির্বাচনে বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক বর্তমান এমপি আবদুল ওদুদ, সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ রুহুল আমিন, সাবেক ছাত্রনেতা ও তরুণ শিল্পপতি সামিউল হক লিটন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ স¤পাদক ডা. গোলাম রাব্বানীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা স্পষ্ট করে বলতে পারছে না দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের ৯ প্রার্থী।

প্রার্থিতা পাওয়ার দৌড়ে মাঠে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে লবিং-গ্রুপিং চালাচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা যেমন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তেমনি সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মী-সমর্থকরাও বর্তমান এমপির কর্মকা- চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। আলোচিত হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নৈতিকতা, সততা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনটি জামায়াত-বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে ২০০৮ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি থেকে আসা আবদুল ওদুদ। টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় এ আসনে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের জনসমর্থনও বেড়েছে আগের যেকোনো সময়ের থেকে। মনোনয়ন নিয়ে গ্রুপিং থাকায় আগামী নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখা দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। তবে আগামী নির্বাচনে আবদুল ওদুদকে মনোনয়ন দিলে জয়লাভ করবেন বলেও মনে করেন তার কর্মী-সমর্থকরা।

প্রতিদিনের সংবাদকে আবদুল ওদুদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে ১৪ ইউনিয়নের ১২টিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জিতিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছি। শহর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত উন্নয়ন পৌঁছে দিয়েছি। বর্তমান আওয়ামী লীগ এখানে আগের থেকে অনেক সুসংগঠিত। আর এসব কর্মকান্ডকে ভর করেই জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোননয়ন দেবেন আমার বিশ্বাস।

আওয়ামী লীগ থেকে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ শিল্পপতি সামিউল হক লিটন এরই মধ্যে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভালো অবস্থান তৈরি করেছেন বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। ফলে দলীয় মনোনয়ন পেলে শেখ হাসিনাকে এ আসন উপহার দেবেন এমনটাই মনে করেন তার কর্মী-সমর্থকরা। এ বিষয়ে প্রতিদিনের সংবাদকে সামিউল হক লিটন জানান, গত পৌরসভার নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী পেয়েছিলেন ৩১ হাজার ভোট আর তিনি পেয়েছিলেন ৩০ হাজার ভোট। সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। তৃণমূলের ভোটাররাই তার শক্তি। আর এ কারণেই তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ রুহুল আমিন। দুঃসময়ে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের পাশে ছিলেন। এলাকায় নেতাকর্মীদের নানাভাবে সহযোগিতা করে দলের পাশে ছিলেন। যদিও তিনি বিরোধিতা করে নয়; বর্তমান এমপির সঙ্গেই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ও গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মাঝে মনোমালিন্য ও গ্রুপিং থাকলেও দল মনোনীত ব্যক্তিকে ভোট দেবেন এবং বিজয়ী করে আনবেন এমটাই মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি মো. হারুনুর রশিদ সম্ভাব্য একক প্রার্থী। তিনি জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তার জয় সুনিশ্চিত। ভোটের মাধ্যমেই জনগণ আবারও বিএনপির হারানো আসন পুনরুদ্ধার করবেন বলে আশাবাদী এই সাবেক এমপি।

এদিকে জাসদ (ইনু) থেকে মনিরুজ্জামান মনির দলটির একক প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে জানান দিচ্ছেন তিনি প্রার্থী হবেন। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে তার হয়েই কাজ করবেন বলে জানান এই জাসদ নেতা।

নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে রেখেছেন। তিনি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে নীরবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

"