ভারতজুড়ে মোদির নাম বদলের খেলা

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

কলকাতা প্রতিনিধি

আগামী বছর ভারতের লোকসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোটের বৈতরণী পার পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের বিভিন্ন শহরের নাম বদলের খেলাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছেন। ভারতে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় মোদির জনপ্রিয়তায় ভাটার টান দেখে আতঙ্কিত বিজেপি এবার হিন্দুত্ববাদকে অস্ত্র করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য মাঠে নেমে পড়েছে। ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক শহরের নাম বদল করে পুরনো নামকে ফের প্রতিষ্ঠা করছে। বিজেপি মনে করে, এতে হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করা যাবে।

ভারতে জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশের বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানের নাম বদল করছেন। উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক মোঘলসরাই স্টেশনের নাম বদল করে প-িত দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন রেখেছেন। বদলে দিয়েছেন এলাহাবাদের নাম। রেখেছেন প্রয়াগরাজ। বদলে দেওয়া হয়েছে ঐতিহাসিক ফৈজাবাদের নাম। রাখা হচ্ছে অযোধ্যা। এবার বিজেপির নেতারা নতুন করে দাবি তুলেছেন ঐতিহাসিক আগ্রার নাম বদলের। আগ্রার সাবেক নাম ‘আগ্রাভন’ ফিরিয়ে আনতে চান তারা।

নাম বদলের জন্য বিজেপির হাত তেলেঙ্গানা রাজ্য অবধি চলে এসেছে। রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদের নাম ভাগ্যনগর করার জন্য দাবি তুলেছেন তেলেঙ্গানার বিজেপির নেতারা। ভারতের এই তেলেঙ্গানা রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন আগামী ৭ ডিসেম্বর। বর্তমানে ক্ষমতায় তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি বা টিআরএস। তাই বিজেপি ঘোষণা দিয়েছে, তেলেঙ্গানা বিধানসভায় বিজেপি এবার জয়ী হলে হায়দরাবাদের নাম বদল করে সাবেক নাম ভাগ্যনগর রাখা হবে।

বিজেপির নেতা রাজা সিং দাবি করেছেন, ষোড়শ শতাব্দীতে এ শহরের নাম ভাগ্যনগর থেকে হায়দরাবাদ রেখেছিল। তাই বিজেপি নেতৃত্ব চাইছে, এ বছর তেলেঙ্গানা রাজ্যে ক্ষমতায় এলে তারা এই রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদের নাম বদলিয়ে ভাগ্যনগর রাখবেন। শুধু হায়দরাবাদ নয়, সেকেন্দ্রবাদ ও করিমনগরের মতো আরো কয়েকটি ঐতিহাসিক শহরের নাম বদলিয়ে দেবেন তারা।

যোগীর পথ ধরে নাম বদলের খেলায় নেমেছে মোদির রাজ্য গুজরাটও। গুজরাটের পুরনো রাজধানী আহমেদাবাদের নাম বদল করার উদ্যোগ নিয়েছে গুজরাটের বিজেপির নেতৃত্বাধীন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানির সরকার। সুপ্রাচীন এই বাণিজ্যিক শহর আহমেদাবাদের নাম পাল্টে কর্ণাবতী রাখার উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী নিতিন প্যাটেল। তিনি গত মঙ্গলবার রাজধানী গান্ধীনগরে বলেছেন, আইনি বাধা না থাকলে আহমেদাবাদকে কর্ণাবতী করা হবে।

গুজরাটের সবরমতী নদীর তীরে অবস্থান আহমেদাবাদ শহরের। এই শহরের একাদশ শতাব্দীর আগে নাম ছিল আশাপল্লি। এরপর চৌলুক্য বংশের রাজা কর্ণ এই শহর আক্রমণ করে দখল করে নেন। এরপর রাখা হয় কর্ণাবতী। তার রাজত্বকালে এই শহরকে রাজধানী ঘোষণা করেন তিনি। এরপর ১৪১১ সালে প্রথম আহমেদ শাহ এই শহরকে সাজিয়ে তোলেন। শহরটি গুজরাটের একটি বাণিজ্য শহর হিসেবে গড়ে ওঠে। কর্ণবতীর পরিবর্তে এরপর রাখা হয় আহমেদাবাদ।

এর আগে গত মঙ্গলবার দীপাবলি উৎসবের প্রাক্কালে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উৎসবের সূচনা করতে গিয়েছিলেন অযোধ্যায়। সেখানেই তিনি তিন লাখ প্রদীপ জ্বালিয়ে দীপাবলি উৎসবের সূচনা করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফৈজাবাদের নাম বদলে হবে অযোধ্যা। যদিও এর আগে গুরুগাঁওয়ের নাম বদলে নতুন নাম হয়েছে গুরুগ্রাম। ১৯৯৬ সালে মুম্বাদেবীর নামে বোম্বাইয়ের নাম বদলে হয়েছে মুম্বাই। ২০১৪ সালে কর্ণাটকের রাজধানী ব্যাঙ্গালোরের নাম বদলে হয়েছে বেঙ্গালুরু। ম্যাঙ্গালোর হয়েছে মেঙ্গালুরু। ২০১১ সালে উড়িষ্যা হয়েছে ওডিশা। একই বছর প-িচেরির নাম বদলে হয়েছে পদুচেরি। আর ক্যালকাটা হয়েছে কলকাতা। এবার নতুন করে আরো দাবি উঠেছে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের নাম শম্ভাজিনগর, মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের নাম ভোজপাল এবং সিমলার নাম শ্যামলা করার।

 

"