যশোরে ‘ভুয়া’ সন্দেহে ৪ পুলিশকে গণপিটুনি

পুরুষশূন্য মাটিকুমড়া গ্রাম

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

যশোর প্রতিনিধি

যশোরের ঝিকরগাছায় ভুয়া পুলিশ সন্দেহে তিন কনস্টেবলসহ চারজনকে মারধর করে গ্রামবাসী। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি কনস্টেবল হলেন মুরাদ হোসেন, শিমুল হোসেন ও মামুন আলী এবং প্রাইভেটকারচালক শাওন। আহতদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর শুক্রবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন ও তার ভাইপো আশাদুল ইসলামকে জখম অবস্থায় আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে তারা জখম হয়েছে। তবে আহতদের দাবি, পুলিশ পিটিয়ে জখম করেছে। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ ৪০ জন গ্রামবাসীকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেছে। গণগ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে মাটিকুমড়া গ্রাম।

যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামে এক মাদক বিক্রেতাকে ধরতে অভিযানে যায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। কিন্তু ডিবি পুলিশকে ভুয়া মনে করে গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। গণমারধরে আহত হন তিন ডিবি কনস্টেবল ও প্রাইভেটকারচালক। মঈনুল হক আরো জানান, আইনশৃঙ্খলার বিঘœ ঘটাতে কোনো চক্র পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সম্প্রতি গ্রামের জহিরুল নামে এক মাদক কারবারির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে কয়েকজন ব্যক্তির। তারা পুলিশ পরিচয়ে নিরীহ লোকজনকে আটক করে অর্থবাণিজ্য করছিল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, পুলিশ পরিচয়ধারীরা ওই মাদক কারবারির তথ্যমতে এলাকার নিরীহ মানুষকে মাদক দিয়ে আটক করে টাকা দাবি করত। এক পর্যায়ে ওই মাদক কারবারির সুপারিশে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। এ ছাড়াও গ্রামে ছিনতাই, চুরির ঘটনাও বেড়ে গিয়েছিল। এতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ পরিচয়ে চার ব্যক্তি গ্রামে ঢোকে। টের পেয়ে গ্রামবাসী তাদের ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে তাদের কাছে পরিচয় জানতে চায় গ্রামবাসী। কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা ছিল না। গ্রামবাসীর সন্দেহ হয় তারা ভুয়া পুলিশ। এলাকাবাসীর সঙ্গে তারা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই চারজনকে মারধর করে। একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে। ওই মাইক্রোতে দেশীয় অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্যও ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় ফাঁড়ি ও থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

এলাকাবাসীর দাবি, ভুয়া পুলিশ সন্দেহে মারধরের পর পুলিশ গ্রামে গণগ্রেফতার করছে। অন্তত ৭০-৮০ জনকে ইতোমধ্যে আটকও করা হয়েছে। এদের মধ্যে মাটিকুমড়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় হাজিরবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন ও তার ভাইপো আশাদুল ইসলামকে আটকের পর মারধরে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। পুলিশের অভিযানে দুই-তিনটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও গ্রামবাসীর দাবি।

ঝিকরগাছা থানার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, একজন সাব ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে অভিযানে গিয়েছিল ডিবি পুলিশের দল। গ্রামবাসী তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে তিনি ওইসব ইন্সপেক্টরের নাম বলতে পারেননি তাৎক্ষণিকভাবে।

 

"