ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিট সম্প্রসারণ হচ্ছে

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডুবুরি সংকটে থাকা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি ইউনিটকে আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সে এখন মাত্র ২৫ জন ডুবুরি রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। কোথাও নৌকা ও লঞ্চডুবি হলে তখন আরো বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। যে কারণে সরকার ১৬৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই ইউনিটকে আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর বান্দরবানের থানচি উপজেলার নাফাখুমে পড়ে নিখোঁজ হওয়া আরিফুল হাসান ফাহিমের (২৭) লাশ উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিসের একদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। নিহত ফাহিম রাজধানীর মিরপুরের ক্যান্টনমেন্ট এলাকার কচুক্ষেতের মো. হেদায়েত উল্লাহর ছেলে। গত ১৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে ছয় বন্ধু মিলে বান্দরবানের থানচি যায়। পরদিন ১৭ অক্টোবর সকালে তারা নাফাখুম বেড়াতে যায়। পথে আরিফুল হাসান ফাহিম পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। একদিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত জুলাইতেও চটগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতি নদীতে ডুবে যাওয়া যুবক মো. ইকবালকে (২২) উদ্ধারে বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান দেশে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীসহ অসংখ্য নদী, উপ-নদী ও শাখা নদী রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হাওর রয়েছে এবং দেশের মোট আয়তনের দুই তৃতীয়াংশ বন্যা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বছরের দুই থেকে পাঁচ মাস দেশের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে অবস্থান করে। তবে নৌপথকে অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যাত্রী এবং বিভিন্ন ধরনের মালামাল পরিবহনে জলপথকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে যেখানে সড়ক পথে যোগাযোগ করা অসম্ভব, সেখানে নৌপরিবহন হলো দেশের যোগাযোগের প্রধান পথ।

জানা যায়, নৌ দুর্ঘটনায় গত ৫ বছরে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ জীবন দিয়েছেন। ফলে এটি জাতীয় এবং আঞ্চলিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাছাড়া প্রতিবছর পুকুর, হাওর, ঝর্ণা এবং সমুদ্র সৈকতে পানিতে ডুবে মৃত্যুজনিত ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু এসব দুর্ঘটনা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানে জরুরি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্ধার সহায়ক জিনিসপত্র সংগ্রহ জরুরি। এ ছাড়াও ডুবুরিদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মূল্যবান জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিনে আনা প্রয়োজন।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত রোববার (৪ নভেম্বর) এক বৈঠকে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ডুবুরি ইউনিট সম্প্রসারণ’ নামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। ১৬৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। জলভাগে ও নৌরুটে দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তি ও যানের অবস্থান শনাক্ত করা এবং উদ্ধার কাজ পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ডুবুরিদের পরিচিত করা এবং আধুনিক উদ্ধার কৌশল প্রয়োগে পারদর্শী করা এবং যেকোনো দুর্ঘটনায় উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রংপুরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ লক্ষ্যে সরকার একটি স্যালভেজ ফায়ার ফাইটিং টাগ, সাতটি পন্টুন ও জেটি, ১৪টি হেভি ডিউটি রেসকিউ বোট, ১৪টি লাইট ডিউটি রেসকিউ বোট, সাতটি রেসকিউ ভেহিক্যাল, ৪২টি ডাইভিং অ্যাপারেটরস সেট, সাতটি এয়ার কমপ্রেসার মেশিন, সাতটি লাইট ট্রাক (রেসকিউ বোট পরিবহন), সাতটি পোর্টেবল ডি-কমপ্রেসার চেম্বার, একটি বিল্ড ভেহিক্যাল মাউন্টেড ডি-কমপ্রেসার চেম্বার এবং বিভিন্ন রেসকিউ সরঞ্জাম সংগ্রহ করবে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পরিদর্শক কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরির সংখ্যা খুবই কম। চট্টগ্রাম বিভাগে মাত্র দুজন প্রধান ডুবুরি ও দুজন সহকারী রয়েছে। এত বড় এলাকায় এই চারজনকে দিয়েই ডুবুরির কাজ সারতে হয়। চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে যেতেই একদিন সময় লেগে যায়। তাই ডুবুরির সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।’

 

"