মুক্তিযোদ্ধা মোবারক আজও ভাতা পাননি

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সবুজ হোসেন, নওগাঁ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে রাণীনগর উপজেলার ভবানীপুর, ঘোষগ্রাম, কুজাইল, দুর্গাপুর, আত্রাই উপজেলার চাপড়া, সাহাগোলা গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বেশ কিছু লোককে কয়েক দফায় জেলার বদলগাছী উপজেলার গোবরচাপা হয়ে ভারতে পৌঁছে দেন তিনি। এ রকম সাহসী ভূমিকার কারণে তার এলাকাবাসী মোবারক মাঝিকে ‘বাঘা মাঝি’ উপাধি দেয়। সেই থেকেই তিনি বাঘা মাঝি হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতে নিয়ে যাওয়া এবং তিনিও সেখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুল জলিল এবং স্বাধীন দেশের প্রথম ডেপুটি স্পিকার বয়তুল্লাহ মোবারক মাঝিকে পৃথকভাবে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দেন। এ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্তি তালিকার ৪০ নম্বরে রয়েছে তার নাম। জীবনযুদ্ধে পরাজিত এই বীর সৈনিকের সংসারে প্রতিনিয়ত অভাব অনাটন লেগেই আছে, শারীরিক অসুস্থতা তো আছেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতাসহ রাষ্ট্রীয় সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাঘা মাঝি।

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও নওগাঁর রাণীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক মাঝির কপালে জোটেনি মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা। বাঘা মাঝির জীবনের শেষ মুহূর্তে খেয়ে না খেয়েই চলছে তার জীবন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা থেকে বাঘা মাঝি আজও বঞ্চিত। সরকারি বরাদ্দ মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা চালু করার জন্য কর্তাব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েও অদ্যাবধি সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত বজ্রকণ্ঠ নামক বই হাতে নিয়ে তার নিজ গ্রাম ভবানীপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান বাঘা মাঝি। তিন ছেলে এক মেয়ে থাকলেও তাদের বিবাহের পর সবাই পৃথকভাবে ঘর-সংসার করে। তার স্ত্রী মেয়ের বাড়িতে থাকার কারণে অনেক সময় নিজেই রান্না করে খেতে হয়। কিছু পৈতৃক সম্পত্তি ছিল, সেগুলো ছেলে-মেয়েদের নামে লেখে দেওয়ার পর তার প্রতি আর কেউ লক্ষ রাখে না। ছোট ছেলে কিছুটা সহযোগিতা করলেও তার অভাব-অনটনের কারণে পিতার প্রতি সকল দ্বায়-দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। বয়সের ভারে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মোবারক মাঝি এখন কোনো কাজ-কর্মও করতে পারেন না। ১০২ বছর রয়সেও তার কপালে জেটেনি বয়স্ক ভাতা। উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন জানান, বাঘা মাঝি আমাকে ও এই এলাকার বেশকিছু মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণের জন্য নিজে গাইড করে ভারতে পাঠিয়েছেন। তার কপালে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা জুটল না তা সত্যই দুঃখজনক।

রাণীনগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. ইসমাইল হোসেন জানান, বাঘা মাঝিকে আমি চিনতে পারছি না। তবে তার কাছে যেসব কাগজপত্র আছে সেগুলো নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। নওগাঁ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. হারুন অল-রশিদ জানান, বাঘা মাঝির দুইটি সার্টিফিকেটই আমি দেখেছি। সব ঠিক আছে। কিন্তু তিনি কেন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন না তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।

"