‘মাহেন্দ্রা’র বেপরোয়া গতি আতঙ্কে খুলনার পথচারী

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা মহানগরীতে একের পর বাড়ছে মাহেন্দ্রা নামক হিউম্যান হলার। বাড়ছে ইজিবাইক, ব্যাচারি চালিত রিকশার মতো অবৈধ যানও। নিয়মিতই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় নিহতও হচ্ছে। মাহেন্দ্রার বেপরোয়া গতিতে সড়কের পথচারীরা আতঙ্কে চলাচল করেন বলে জানিয়েছেন পথচারীরা।

জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে বিভিন্ন রুটে যাতায়াতের জন্য মাহেন্দ্রার চাহিদা রয়েছে প্রায় ৭০০। কিন্তু চলাচল করে প্রায় দ্বিগুণ। কোনো ধরনের দক্ষতা ছাড়াই অপ্রাপ্তবয়স্কসহ সব বয়সের মানুষের হাতে মাহেন্দ্রার হ্যান্ডেল। কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে চলছে এসব যানবাহন। মহানগরীতে বাড়ছে নতুন নতুন অবৈধ এমন যানের শোরুম। নিয়মিতই প্রশাসনের নাকের ডগায় দিবালোকে খুচরা যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে রুট পারমিট না পাওয়া যানবাহনগুলো। এদিকে এসব যানবাহনের বেপরোয়া গতিতে আতঙ্কে থাকছেন সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা।

নিরাপদ সড়ক চাই-এর তথ্য অনুযায়ী খুলনা মহানগরীতে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এসব যানের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় সাতজন এবং আহত ১৭৮ জন। খুলনা জেলায় নিহত ২৪ জন এবং আহত ৩৯০ জন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহানগরীসহ জেলায় নিহত ২৩ জন এবং আহত ৩৭ জন। এছাড়া ছোটখাটো সামনে না আসা দুর্ঘটনা রয়েছে অসংখ্য।

শেখপাড়া এলাকার মহিউদ্দিন খান বলেন, সড়কে মাহেন্দ্রার কারণে সাধারণ যাত্রীরা আতঙ্কে থাকে। রেহনা পারভীন নামের এক স্কুলশিক্ষিক বলেন, তিনি বাসা থেকে হেঁটে স্কুলে যান। কিন্তু সড়ক দিয়ে হাঁটতে ভয় হয় কখন বেপরোয়া মাহেন্দ্রা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

নিয়মিত সন্তান নিয়ে স্কুলে যান গৃহবধূ শিরিন আকতার, তিনি বলেন, ‘অনেক সময় রাস্তার পাশ দিয়ে যেতে গেলেও মাহেন্দ্রার ভয়ে তটস্ত থাকতে হয়। পুরো রাস্তাজুড়ে চলে মাহেন্দ্রা। কোনো নিয়মনীতি চালকরা মানেন না।’

সুজনের জেলা কমিটির সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব গাড়ি সড়কে চলছে। মেইন সড়ক দিয়ে চলতে গেলেই বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হতে হয়। পাশাপাশি গাড়িগুলো বেপরোয়া গতিতে চলার কারণে থাকতে হয় আতঙ্কের মধ্যে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। পাশাপাশি গণপরিবহন আরো বাড়ানো দরকার।

দৌলতপুর বেবিট্যাক্সি ড্রাইভার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মামুন গাজী বলেন, বিভাগীয় শহর হিসেবে শব্দদূষণ খুলনায় অনেক কম। বেবিট্যাক্সির চেয়ে এখন মাহেন্দ্রার শব্দ অনেক কম হয় বলে এই নেতা দাবি করেন।

বিআরটিএ খুলনার উপপরিচালক জিয়াউর রহমান জানান, থ্রিহুইলার (বেবিট্যাক্সি) গাড়িগুলো অধিকাংশই আইনগতভাবে বৈধ। প্রায় ১২০০ এর মতো গাড়ি চলাচল করছে। বিষয়টি ইউনিয়নের নেতারা তাদের অবগত করেছে বলে তিনি জানান।

"