রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গিবাদের প্রচারণা : গ্রেফতার ৮

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও উগ্রবাদী প্রচার-প্রচারণার অভিযোগে আট এনজিওকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিইউ)।

রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ৯ নম্বর রোডের ৬৪৪ নম্বর বাড়ির পাঁচ তলায় স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ (এসকেবি) নামক এনজিও অফিসে গত বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন সাফ ওয়ানুর রহমান (৩৪), সুলতান মাহমুদ (২৫), নজরুল ইসলাম (৩৮), আবু তাহের (৩৬), ইলিয়াস মৃধা (৩০), আশরাফুল আলম (২৪), হাসনাইন (৩০) ও কামরুল (২৮)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা, একটি ল্যাপটপ, ৮টি সিপিইউ, ৮টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও ১০টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

কাউন্টার টেররিজমের দাবি, এনজিওটির কার্যক্রমের আড়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘আনসার-আল-ইসলাম’-এর সদস্যরাই সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছিল। পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশন এনজিওটির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরে নির্বিঘেœ জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ নামক এনজিও অফিসের কার্যক্রম আনসার-আল-ইসলামের মতাদর্শের অনুসারীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এনজিওভিত্তিক হিউম্যানিটারিয়ান ওয়ার্কের ছদ্মাবরণে এনজিওর সদস্যরা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে উগ্রবাদের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, গত আগস্ট মাসে এনজিও ব্যুরো জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্য পরিচালনার অপরাধে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ওই এনজিওটির কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করে। এ এনজিওটি পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিপাইন, কানাডা, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ইসলামভিত্তিক সংস্থা থেকে অনুদান সংগ্রহ করে থাকে। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশে হিসাববহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানের নামে অর্থ সংগ্রহ করে। পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশন এসকেবির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে।

আল খিদমত ফাউন্ডেশনের জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা ও লস্কর-ই-তইয়েবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে। গ্রেফতাররা ও এসকেবি এনজিওটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থনপুষ্ট। তারা এসকেবি এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিভিন্ন কৌশলে সরকারবিরোধী প্রচারণা, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ ও রোহিঙ্গাদের প্ররোচিত করে তারা দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় আনসার-আল-ইসলামের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অর্থায়ন করে। তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে তাদের সংগঠনের জন্য সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। সদস্য সংগ্রহ করে নাশকতামূলক কাজের মাধ্যমে সরকারকে অকার্যকর করা ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

"