দুবাই গিয়ে প্রতারণার শিকার সিলেটের যুবক!

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট

ভাগ্যবদলের আশায় চলতি বছরের আগস্টে মধ্যপ্রাচের দেশ দুবাইয়ে পাড়ি জমান সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার নূরপুর গ্রামের আবদুস শাকুরের ছেলে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (২৯)। পরিবারে সচ্ছলতা আনতে ঢাকার নয়াপল্টনের ট্রাভেল এজেন্সি জে এম এয়ার ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে দুবাই যান তিনি। কথা ছিল সেখান থেকে পেশাদার কাজের ভিসায় (প্রফেশনাল) তাকে তুরস্কে ভালো চাকরি পাইয়ে দেবে ওই এজেন্সি। ভাগ্যবদল দূরের কথা প্রায় দুই মাস হতে চলল এখনো পর্যন্ত শহিদুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি তার পরিবারের। তিনি জীবিত না মৃত তাও জানে না পরিবার।

শহিদুল ইসলামের ভাই সুমন জানান, চুক্তি অনুযায়ী ওই এজেন্সির মালিক মোহাম্মদ শফিকুল আলমকে প্রথম দফায় চেকের মাধ্যমে দেন এক লাখ টাকা। কিছুদিন পর এজেন্সি থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় শহিদুল ইসলামের ভিসা হয়ে গেছে। তাই বাকি টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। পরে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে ঋণ করে বাকি পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করেন শহিদুল।

শহিদুল দুবাই পৌঁছেই বুঝতে পারেন তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। একপর্যায়ে প্রতারকরা তার ভাইয়ের কাছে ফোন দিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় কিডনিসহ তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। পরে ওই এজেন্সির মালিক মোহাম্মদ শফিকুল আলমের ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা জমা দেন শহিদুলের ভাই সুমন। বাকি টাকা পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে হুমকি-ধমকি দেয় জে এম এয়ার ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ শফিকুল আলম ও তার সহকারী মাহফুজ।

এদিকে ছেলের ‘নিখোঁজ’ সংবাদ শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন শহিদুল ইসলামের মা ফাতেমা বেগম। বিলাপ করে ছেলের সন্ধান চেয়ে এই প্রতিবেদকের কাছে তিনি বলেন, ‘আমার ফুয়ারে দেখতাম (আমার ছেলেকে দেখতে চাই)। তারা আমার ফুয়ারে মারিলিছে (ছেলেক মেরে ফেলেছে)।’ বলছিলেন মারা যাওয়ার আগে শেষবারের মতো তিনি সন্তানের মুখ দেখে যেতে চান।

শহিদুলের ভাই সুমন আরো জানান, প্রায় দুই মাস হতে চলল এখনো পর্যন্ত আমার ভাইয়ের (শহিদুল) সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন? এমনকি জীবিত না মৃত তাও আমরা জানি না। পরিবারের সবাই খুব কষ্টে জীবনযাপন করছে। আমরা আমাদের ভাইকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই। এ ব্যাপারে তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

"