বদলে যাচ্ছে বরগুনা

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

এবার বদলে যাচ্ছে বরগুনা, সরকারের বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে সেখানে। এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র। বর্তমানে পায়রা এবং বিষখালী নদীর ওপর দুটি বৃহৎ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, তালতলীর নিশান বাড়িয়ায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জাহাজ ভাঙা নির্মাণ শিল্প নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নৌবাহিনীর সুবিশাল ঘাঁটিসহ ব্যাপক উন্নয়নে এখানে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

অবহেলিত এই জনপদে বইছে উন্নয়নের হাওয়া। বিশেষ করে বরগুনার তালতলীতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। পায়রা নদী সংলগ্ন তালতলীর তেঁতুলবাড়িয়ায় নৌবাহিনী ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণ ও প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান ওই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসব শিল্প স্থাপনে পর্যটন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে এলাকার মানুষ আনন্দিত।

বরগুনা জেলা প্রশাসক অফিস জানিয়েছে, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের সম্প্রসারণের জন্য ১৬২ একর এবং শিপ বিল্ডিং ও শিপ রিসাইক্লিংয়ের জন্য ১০৫ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

তালতলীর নিশানবাড়িয়ায় কয়লাভিত্তিক ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পরিবেশ রক্ষায় সবধরনের ব্যবস্থা নিয়ে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্প এলাকার অধিবাসীদের দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিপূরণও। এটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আইসোটেক ইলেট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড ।

আইসোটেক গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার ফিরোজ চৌধুরী জানান, ওই এলাকায় শুধু বিদ্যুৎ প্লান্ট নয়, সেখানে কর্মরতদের ও স্থানীয়দের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল হবে।

স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির করা হবে। এখানে সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আইসোটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঈনুল আলম জানান, পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বৈদেশিক অর্থায়নে নির্মিত হওয়ায় নিয়মনীতির ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই এ প্রকল্পে। এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ব্যাপক শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেবে বরগুনা অঞ্চল। উপকৃত হবেন বরগুনা জেলার বাসিন্দারা।

"