কেন্দ্রে সেনা মোতায়েন চাই : যুক্তফ্রন্ট

ইভিএমে নির্বাচন নয়

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন চায় ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। একই সঙ্গে সীমিত পরিসরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন করার যে সিদ্ধান্ত রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সেখান থেকে সরে আসার দাবি জানিয়েছে জোটটি। তবে তফসিল না পেছানোর জন্য কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিনিধিদলটি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে জোটের একটি প্রতিনিধি দল এ অনুরোধ জানায়। বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন। নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিকল্পধারা মহাসচিব বলেন, ইসি ৮ তারিখ তফসিল ঘোষণা করবে। আমরা জানতে চেয়েছি, যদি সরকারের পক্ষ থেকে বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে চাপ আসে ইসি এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এগিয়ে-পিছিয়ে নিতে পারে কিনা।

ইসি জানিয়েছে সরকারের থেকে চাপ আসে না। তারা আশাও করে না। মান্নান আরো বলেন, নির্বাচন পেছানোর কোনো দাবি করিনি। আমরা বলেছি, কোনোভাবেই সংসদে শূন্যতা সৃষ্টি করা যাবে না। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উল্টো দাবি কেন করা হচ্ছে জানতে চাইলে মান্নান বলেন, আমরা গত দিনের দাবির উল্টো কোনো দাবি করিনি। আমরা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দাবি করেছি। জনগণ তাকিয়ে আছে নির্বাচনের জন্য। নির্বাচন পেছালে সাংবিধানিক শূন্যতা হবে।

সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে মেজর (অব.) মান্নান বলেন, সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখলে ভোট কেন্দ্রে অনিয়ম হলে তাদের করণীয় কিছু থাকে না। আমরা বলেছি, সেনাবাহিনীর ৪/৫ জন সদস্যকে প্রতিটি কেন্দ্রে দেওয়া যায় কিনা। জনগণের যে আস্থা সেনাবাহিনীর ওপর সেই আস্থা রাখতে এ বাহিনীকে কেন্দ্রে মোতায়েন করতে হবে। তবে জোটের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে কমিশন দাবি করেছে উল্লেখ করে বিকল্পধারার মহাসচিব বলেন, একজন করে সদস্য দিলেও ৪০ হাজার সেনাসদস্য লাগবে। এটা সম্ভব হবে না। পুলিশ, আনসার, র‌্যাব থাকবে।

ভোটগ্রহণে ইভিএমের বিরোধিতা করেছে যুক্তফ্রন্ট। এ বিষয়ে বিকল্পধারা মহাসচিব বলেন, ইভিএম নতুন চালু করেছে। কয়েকটি কেন্দ্রে কেন ব্যবহার হবে। নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। যুক্তফ্রন্ট থেকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইভিএম প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করা হবে, যোগ করেন বিএনপির সাবেক এই নেতা। প্রধানমন্ত্রীকেও একই অনুরোধ করা হবে বলে জানান তিনি।

এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কিনা জানতে চাইলে বিকল্পধারার মহাসচিব বলেন, কমিশনারদের দৃঢ় বক্তব্য দেখে আমরা আশ্বস্ত যে ইসি চেষ্টা করবে যেন একটা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যায়। নির্বাচন কমিশন আমাদের প্রশংসা করেছে।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মিলিয়ে কর্মসূচি দেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তফ্রন্ট থেকে ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে। তারা কি চায় তারা ভালো বলতে পারবে। যে দাবিগুলো আমরা রেখেছিলাম তারা দুইটা দাবি যোগ করেছে। পাঁচটা দাবি অভিন্ন। ইসির সঙ্গে বৈঠকে ৫টি লিখিত সুপারিশও পেশ করে যুক্তফ্রন্ট। এসব সুপারিশের মধ্যে তফসিল না পেছানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো জোটের চাপ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে ইসি মাথানত করবে না এটা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

যুক্তফ্রন্টের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন বিকল্পধারার সহ-সভাপতি মাহমুদা চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা, গোলাম সারোয়ার মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, বাংলাদেশ ন্যাপের একাংশের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গনি প্রমুখ।

 

"