গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্য করে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে দুদক। তার বিরুদ্ধে দেশ ও দেশের বাইরে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ক্রয় ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। লিখিত ওই অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে একজন দুদক কর্মকর্তা বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত শুরু হবে। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। অর্থাৎ দুদকের নিয়ম অনুযায়ীই সব হবে।’ দুদকের গ্রহণ করা লিখিত ওই অভিযোগে বলা হয়েছে

‘টেন্ডার বাণিজ্য করে প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।’ এতে বলা হয়েছে, প্রধান প্রকৌশলীর পদটি বাগিয়ে নিতে রফিকুল ঘুষ লেনদেনে জড়িত হন। কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি বর্তমান পদে বসেছেন এ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে ।

পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার জন্য রফিকুল কমপক্ষে শত কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলেও ওই অভিযোগে বলা হয়েছে। তাতে আরো বলা হয়, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের আশীর্বাদপুষ্ট সৈয়দ মাহফুজ আহম্মদ ও এস এম ফজলুল কবির সম্প্রতি ২ বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন।

দুদকে জমা দেয়া ওই অভিযোগে আরো বলা হয়, বিদেশে ডলার পাঠাতে সহযোগিতা না করায় গণপূর্ত অধিদফতরের ই/এম সার্কেল-৩ এর (শেরেবাংলা নগর অঞ্চল) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসেমকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মানসিকভাবে নির্যাতন করায় তিনি প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের রুমেই স্ট্রোক করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

রফিকুলের বিরুদ্ধে কানাডায় নিকট আত্মীয়ের নামে বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের গ্রহণ করা ওই অভিযোগ বলা হয়েছে, হংকংয়ের এইচএসবিসি ব্যাংকে রফিকুল ইসলামের শত কোটি টাকা রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রফিকুলের নামে ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। ধানমন্ডির ৮নং রোডে হাউস নং-৯, রাজধানীর গ্রিন রোডের গ্রিন কর্নার নামের অ্যাপার্টমেন্টে আলিশান দুটি ফ্ল্যাট, গুলশানের ৩৫নং রোডে ৪৪নং বাড়িতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং বনানীর ৭নং রোডে এফ/১৭ আনোয়ার মঞ্জিল নামে একটি বাড়ি রয়েছে। এছাড়া মিরপুরে ১০ কাঠা জমির ওপর ১২টি ফ্ল্যাট বিশিষ্ট ছয়তলা বাড়ির মালিকও তিনি।

এতে আরো বলা হয়, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রতিটি বড় বড় কাজের টেন্ডার থেকে ‘নেগোশিয়েশন মানি’ হিসেবে প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম এবং জি কে বিল্ডার্সের মালিক গোলাম কিবরিয়া শামীম শত কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে।

অভিযোগে বলা হয়, গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক সূত্রে তিনি যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের ভাগ্নে। বিএনপি-জামায়াত জোটের সময়ে সংসদ সচিবালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কর্মরত ছিলেন তিনি। গোলাম আযমের সুপারিশে বিএনপি সরকারের গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে গণপূর্ত অধিদফতর থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আয় করে স্বল্প সময়ে কোটিপতি হয়ে যান রফিকুল ইসলাম। জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী ও কোরবানির ঈদে মির্জা আব্বাসহ শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের গরু সরবরাহকারী হিসেবে গণপূর্ত অধিদফতরে তার ব্যাপক পরিচিতিও রয়েছে।

 

"