গণভবনে সংলাপ

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত ইসলামী ঐক্যজোট

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভবনে সংলাপে ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের নেতারা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে আলোচনায় বসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

গণভবনের এ সংলাপে ইসলামী ঐক্যজোটের ১২টি দলের ৫২ জন নেতা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের নেতারা। সংলাপে অংশ নেয় ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জালালী পার্টি, আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ, জাকের পার্টি; বাংলাদেশ জাতীয় ইসলামী জোট-বিএনআইএ, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (আইডিএ)।

সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইসলামী দলগুলোর নেতারা। আগামীতে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফিরে আসবেন, এ ব্যাপারে তাদের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে, এ কথা তারা অকপটে বলে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার আদর্শ সমুন্নত রাখার ব্যাপারে উভয়পক্ষই সংলাপে একমত হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

সংলাপে কোনো দ্বিমত ছিল না জানিয়ে কাদের বলেন, ইসলামী দলগুলো ‘সংবিধানসম্মতভাবে’ নির্বাচন সমর্থন করে এবং এ ব্যাপারে তারা ‘অংশী’ হিসেবে থাকবে। নির্বাচন-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে মতবিরোধের মধ্যে কামাল হোসেনের উদ্যোগে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রথমে তাদের সংলাপে ডাকেন শেখ হাসিনা। এরপর অন্য দলগুলোকেও সংলাপে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, ইসলামী জোটগুলো এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ আরো অনেক দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে বা সংসদ রেখেই নির্বাচন হওয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আমাদের দেশেও ওই পদ্ধতিই অনুসরণ করা উচিত বলে আমার মনে হয়।’

তবে কী নিয়ে এই সংলাপ, জানতে চাইলে আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি নিয়ে বিরোধী জোটগুলোর সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্বের সমাধান খুঁজতে সংলাপে অংশ নিয়েছি। নির্বাচনকালীন সরকারের যে দাবি বা বিতর্ক তা সমাধানের লক্ষ্যে আইনগত ও সাংবিধানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান করা বাঞ্ছনীয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি স্থায়ী আইন করা প্রয়োজন যেন ভবিষ্যতে নির্বাচনের সময় এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়।

 

"