পাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ প্রশাসনিক ভবনে তালা

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবিতে ক্লাস বর্জন করে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরকে অবরুদ্ধ করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ সময় ভাইস চ্যান্সেলর প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনও অবরুদ্ধ করে রাখেন। গতকাল সোমবার পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটেছে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হক জানান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টি প্রশাসন আমাদের অবহিত করলে সেখানে এসআই মনিরের নেতৃত্বে একটি দল পাঠানো হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক আছে বলেও তিনি দাবি করেন। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি করে আসছি, দাবি মেনে নেবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছেন। গত তিন-চার মাস অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। আগেও আমরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধারাবাহিকভাবে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করেছি। প্রতিবার আমাদের আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া হয়। ভিসি স্যার আমাদের সঙ্গে ফোন করছেন। জেল হত্যা দিবসে তার বাসভবন রাজশাহীতে তিন-চারটি গাড়িতে কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকজনকে নিয়ে দায়সারাভাবে দিবস পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষসহ পরবর্তী সব ব্যাচের অর্ডিন্যান্সের আওতাভুক্ত করা, হলের ডাইনিংয়ের খাবার উন্নয়নের জন্য ভর্তুকি প্রদান, ক্লাসরুম ও চেয়ার সংকট দূর করা, পরিবহন সংকট, ক্যাম্পাসে ওয়াইফাই-এর ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি শিক্ষার্থীদের। দুপুর আড়াইটার দিকে ভিসি তার অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তার পিছু নিয়ে ধাওয়া করে ইটপাটকেট ও জুতা-সেন্ডেল নিক্ষেপ করেন। পরে ভিসি ড. রোস্তম আলী দৌড়ে বাসভবনে গিয়ে আশ্রয় নিলে শিক্ষার্থীরা বাসভবনও অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয় বলেন, বিষয়টি উদ্বেগের, তবে এটি প্রত্যাশিত নয়, আশা করি ভিসি স্যার দ্রুত এ অবস্থা নিরসনে দ্রুত

উদ্যোগ নেবেন। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রোস্তম আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং ধাওয়ার কথা বললে তিনি বলেন, আমি পেছনে না তাকিয়ে দ্রুত বাসা চলে আসি। এখন পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করছি, পরে কথা বলব বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডিনদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।

পাবনা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবনে মিজান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছাত্ররা তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। ভিসি স্যারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে তিনি বৈঠকের মাধ্যমে সম্যার সমাধান করবেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

"