ঢাবিতে স্পিকার

আইনের শাসন ছাড়া কোনো সমাজ চলতে পারে না

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

আইনের শাসনের অনুপস্থিতি ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, সবার আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার লাভ করা ছাড়া কোনো সমাজ চলতে পারে না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইন হলো মূল নিয়ন্ত্রক। আইনের শাসনের অনুপস্থিতি ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে। আইনের শাসনের অনুপস্থিতি আমাদের কাম্য নয়।

গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন কনফারেন্স কক্ষে ‘বিচারপতি সিকান্দার আলী মেমোরিয়াল বৃত্তি ২০১৮’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রাস্ট ফান্ডের দাতা সারওয়ার সুলতানা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. নাইমা হক। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আইন অধ্যয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইন অধ্যয়নের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আইন আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র এবং পর্যায়ের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যুক্ত। দৈনন্দিন জীবন, ব্যক্তিগত অধিক্ষেত্র, রাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রতিটি ক্ষেত্রই আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আইনের শাসনের মূল কথা হলো, আইনের শাসন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। কাজেই এই যে বিষয়গুলো রয়েছে তারা সব কিছুই যারা আইন অধ্যয়ন করে তারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে এবং জানতে পারে।

ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে আসা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যয়নরত দুই শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। এই বৃত্তি লাভের মধ্য দিয়ে তারা আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারবে। এটাই ট্রাস্টের সবচেয়ে বড় সফলতা বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, বিচারপতি সিকান্দার যেমন আলী বড়লেখার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মেধা এবং আইন বিষয়ে অধ্যয়ন আইনের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন, তেমনি বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে পড়াশোনায় সহায়তা করলে তারাও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক “রুল অব ল’ অ্যান্ড দ্য কনটেক্সট অব বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে তিনি মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এর মাধ্যমে দেশে আইনের শাসনের পথরুদ্ধ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিচারপতি সিকান্দার আলী মনে করতেন যে, সব ক্ষেত্রে যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে একটা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। তার এই চিন্তা একটি দর্শনে রূপান্তরিত হতে পারে। কেননা আর্থসামাজিক উন্নয়নে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ যা তিনি অনেক আগেই অনুভব করতে পেরেছিলেন। আজ যখন টেকসই উন্নয়নের কথা আলোচনা করা হয় তখন অনেক ধরনের লক্ষ্যের কথা উঠে আসে। এসব কিছু অর্জনের প্রদান শর্ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিচারপতি সিকান্দার আলী যে জীবন দর্শন ধারণ করতেন, সেখান থেকে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সর্বোত্তম পন্থা হবে তার জীবন দর্শন তোমাদের জীবনে প্রতিফলিত করা।

অনুষ্ঠানে সদাচরণ, ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি ও লেখাপড়ায় সন্তোষজনক অগ্রগতির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এলএলবি ৩য় বর্ষ সম্মান শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী ‘বিচারপতি সিকান্দার আলী মেমোরিয়াল বৃত্তি’ লাভ করেছেন। বৃত্তিপ্রাপ্তরা হলেন জয়ন্ত মৃধা এবং ইফাত ছাদিয়া মীম। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন।

 

"