বাবা-মায়ের পাশে শায়িত তরিকুল

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও যশোর প্রতিনিধি

নেতাকর্মী ও যশোরের সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় চিরবিদায় নিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। গতকাল সোমবার বাদ আসর শহরের কারবালা কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে শহরের ঈদগাহ ময়দানে শেষ জানাজা হয়। এতে প্রায় এক লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিকে ঢাকায় তরিকুল ইসলামের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে তার দল বিএনপি।

দলের এই নেতার মরদেহ সকালে শেষবারের মতো নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আনা হলে সহকর্মীরা তার কফিনটি দলীয় পতাকায় ঢেকে দেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপি ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রয়াত এই সহযোদ্ধার প্রতি। কফিনে ফুল দেওয়ার পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। পরে তার জানাজা হয়। জানাজা শেষে বেলা সোয়া ১১টায় সাবেক এই সংসদ সদস্যের কফিন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আরেক দফা জানাজা হয়। সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু, কাজী নাবিল আহমেদ, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান, এম মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আবদুল মান্নান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন আলম, এনামুল হক চৌধুরী প্রমুখ জানাজায় অংশ নেন।

এরপর হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় যশোর শহরের ঘোপ এলাকার নিজ বাড়িতে। সেখানে তাকে একনজর দেখার জন্য শত শত নেতাকর্মী ভিড় করেন। পরে মরদেহ শহরের লালদীঘির পাড়ে দলীয় কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর ঈদগাহ ময়দানে আনা হয় কফিন।

জানাজায় পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তরিকুল ইসলামের বড় ছেলে শান্তুনু ইসলাম সুমিত, ছোট ছেলে ও দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বাবার জন্য দোয়া চেয়ে শান্তুনু ইসলাম সুমিত বলেন, আমার বাবা মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কাজ করতে গিয়ে যদি কোনো ভুল বা কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন, আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। আপনাদের কাছে আমি হাতজোড় করে বাবার জন্য ক্ষমা চাইছি।

তিনি জানান, আগামীকাল বুধবার বাদ আসর নিজ বাড়িতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানান।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার বক্তব্যে বলেন, বাবা জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করেছেন আমৃত্যু পর্যন্ত। আমিও যেন বাবার মতো আপনাদের পাশে থাকতে পারি। বাবা যদি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের কারণে কারো কষ্ট দিয়ে থাকেন, তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। আমার বাবা কখনো মানুষে মানুষে বিভেদ করেনি। সর্বস্তরের মানুষ বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন, এ জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

গত রোববার বিকেলে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তরিকুল ইসলাম। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। যশোর থেকে চারবার নির্বাচনে জিতে সংসদে যাওয়া তরিকুল চারদলীয় জোট সরকারের তথ্যমন্ত্রী এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে তিনি প্রথমে সমাজকল্যাণ এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আসার আগে তিনি সহসভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তরিকুলের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোরে। তার বাবা আবদুল আজিজ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

 

"