হোসনে আরার মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন

একটি অপসারণের সময় দুটি কিডনিই অপসারণ

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাম কিডনি অপসারণের সময় রওশন আরা বেগমের ডান কিডনিও অপসারণ করা হয়েছে। তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া যায়। অস্ত্রোপচারের সময় সার্জনরা রক্তক্ষরণের কারণে হয়তো বুঝতে পারেননি। তবে এটি গাফিলতি, অজ্ঞতা নাকি তাৎক্ষণিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সেটি পরবর্তী কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ ক্ষেত্রে গাফিলতি বা অজ্ঞতার প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হবে। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এসব তথ্য জানায়। ‘ইউরোলজি বিভাগের জনৈক রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যানারে ‘জনৈক রোগী’ উল্লেখ করলেও মূলত কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক সিকদারের মা রওশন আরা বেগমের চিকিৎসায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রদত্ত প্রতিবেদন জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রধান নেফ্রলোজিস্ট অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, একটি কিডনি অপসারণ করতে রওশন আরার দুটি কিডনি অপসারণ করা হয়েছে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে আমরা রোগীর ফাইল জব্দ করে যাবতীয় তথ্য অনুসন্ধান করি। অবাক করা বিষয় হলো রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং সিটিস্ক্যান রিপোর্টে রোগীর দুটি কিডনির অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

যেখানে দেখা যায়, একটি কিডনি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠেছে। কিন্তু হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্টে দুটি কিডনি সংযুক্ত (হর্স টাইপ) ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। যেটা এক ধরনের এডনরম্যালিটি। দুটি কিডনি আলাদা থাকলে একসঙ্গে দুটি কিডনি কাটা সম্ভব নয়। তবে কিডনি হর্স টাইপ না হলে এটা অবশ্যই অপরাধ।

নেফ্রলোজি বিভাগের অধ্যাপক এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল আলম বলেন, রোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ৩ নভেম্বর কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এরপর আরেকটি কমিটি করা হবে, যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি নির্ধারণ করবে। গাফিলতি, অজ্ঞতা বা তাৎক্ষণিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে সেটি নিরুপণ করে কমিটি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ও ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম খুরশিদুল আলম, অধ্যাপক ডা. আমানুর রসুল, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ আল হারুন, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আসাদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বাম পাশের কিডনি জটিলতার কারণে গত ২৬ আগস্ট বিএসএমএমইউতে ভর্তি করানো হয় রওশন আরাকে। তার ছেলে রফিকের দাবি, হাসপাতালে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পর গত ৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা বাম পাশের কিডনি রাখতে চাননি। বাম কিডনি তখন কিছুটা কাজ করছিল। আর ডান পাশের কিডনি পুরোপুরি ভালো ছিল। তখন অন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সিটিস্ক্যানে ধরা পড়ে তার শরীরে কোনো কিডনি নেই। বিএসএমএমইউর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ অক্টোবর রাতে মারা যান রওশন আরা। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর ঘটনা তদন্তে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি ও একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে।

 

"