ভারতে রফতানি দ্বিগুণ কমছে বাণিজ্য ঘাটতি

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

বেনাপোল কাস্টম হাউসকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। এসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে শুল্ক কর নির্ণয় করা হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ে উন্নত প্রক্রিয়া, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আরো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিদিনের আমদানি-রফতানি তথ্য সরবরাহ করছে নিজেদের মধ্যে। এর ফলে বন্ধ হচ্ছে রাজস্ব ফাঁকি, বদলে যাচ্ছে বেনাপোল বন্দর। বদলে গেছে শুল্কায়ন ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া। এদিকে, জানা গেছে, দুই দেশের বাণিজ্য বৈষম্য কমে যাচ্ছে, বাড়ছে রফতানি। বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী এখন বেনাপোলের দায়িত্বে রয়েছেন। সেখানে ফোল্ডার পদ্ধতি চালু করে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত পণ্য খালাস, রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে শক্তিশালী আইআরএম টিম গঠন করা হয়েছে। পণ্য আমদানিতে নানা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কাস্টমস আইনে মোট আমদানি পণ্যের ১০ ভাগ কায়িক পরীক্ষা করার বিধান থাকলেও এতদিন তা মানা হয়নি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে মোট আমদানি পণ্যের শতকরা ১৫ ভাগ পণ্যের কায়িক পরীক্ষা করা হচ্ছে।

৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হয়েছে মোবাইল স্ক্যানার। আনা হয়েছে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৩ হাজার তরল ও কঠিন কেমিক্যালের নিখুঁত পরীক্ষা করার আধুনিক যন্ত্র রমন স্পেকট্রোমিটার। এই মেশিনে ভারত থেকে আমদানি করা বিভিন্ন কেমিক্যালপণ্য পরীক্ষা করে দ্রুত পণ্য খালাস দেওয়া হচ্ছে। আগে ভারত থেকে আমদানি করা কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য ঢাকা থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগত।

এদিকে, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টও ঢেলে সাজানো হয়েছে। পাসপোর্টযাত্রী হয়রানি বন্ধে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের আদলে বসানো হয়েছে আধুনিক স্ক্যানার মেশিন। যাত্রী যাতায়াত আগে এক পথে হলেও এখন যাত্রীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। দালালমুক্ত করা হয়েছে কাস্টমস চেকপয়েন্টে। বসানো হয়েছে আধুনিক সিসি ক্যামেরা। এর মাধ্যমে অফিসারদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন ভারতগামী ট্রাকের

সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ভারতের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বাণিজ্য ঘাটতি কমছে। রফতানি বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে বেনাপোল স্থলবন্দরের গুরুত্ব। চলতি বছর ভারতে রফতানি পরিসংখ্যান আশা জাগিয়েছে। গত বছরে অক্টোবরের প্রথম পনের দিনে ১ হাজার ৪৫ ট্রাক পণ্য রফতানি হলেও চলতি বছর একই সময়ে রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৮১১টি ট্রাক। রফতানি বৃদ্ধির হার শতকরা ৪২.৩০ ভাগ। গত বছরের জুলাই থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩৫ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়। চলতি বছর একই সময়ে তা বেড়ে ১০ হাজার ৭৯১ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়। প্রবৃদ্ধি শতকরা ৬৮ ভাগ। রফতানিতে সাড়ে তিন মাসে ওজনে বেড়েছে শতকরা ২৭ ভাগ। মূল্যে বেড়েছে শতকরা ৪৩। রফতানি শুল্ক বেড়েছে শতকরা ৯৮। এক সময় রফতানিতে বেনাপোলে বহুবিধ বাধা ছিল। গত ডিসেম্বর থেকে রফতানি বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়ায় সফল হতে চলেছে বেনাপোল কাস্টমস। রফতানিতে সময়ের শীর্ষে এখন বেনাপোল।

চালু হয়েছে বাইপাস সড়ক, লিংক রোড ও সিজিসি ৯। বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস করে ভারতীয় খালি ট্রাক ফেরত যাওয়ার নতুন পথ চালু হয়েছে। যা এতদিন ছিল পরিত্যক্ত। ফলে যানজটও কমে এসেছে অনেকটা। বর্তমানে বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো বেনাপোল বন্দরে পুনরায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। কারণ কলকাতা থেকে বেনাপোল বন্দরের দূরত্ব কম ও সহজ হওয়ায় খুব অল্প সময়ে শিল্পের কাঁচামাল খালাস করা সম্ভব।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, যদি বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাড়ানো হয় তাহলে এ কাস্টম হাউস থেকে সরকারের বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করা সম্ভব। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বেনাপোলে স্বচ্ছতার সঙ্গে মালামাল খালাস হয়। বর্তমান কমিশনার যোগ দানের পরপরই বেনাপোল বন্দর একটি আধুনিক বন্দরে রূপ নিতে শুরু করেছে। ছোটখাটো যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) প্রদোষ কান্তি দাস জানান, বন্দরে ইতোমধ্যে ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করায় দীর্ঘদিনের জায়গা সংকট অনেকাংশে কমে আসবে। পর্যায়ক্রমে আরো জায়গা অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, ভারতে সম্প্রতি জয়েন্ট কাস্টমস গ্রুপের সভাতেও বেনাপোল কাস্টমসের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করা হয়েছে। নিজেদের বিরাজমান কার্গো ও যাত্রী গমনাগমনের বাধা দূর করা নিয়ে দফায় দফায় আমরা দিল্লি ও কলকাতায় সভা করেছি। রাজস্ব ফাঁকি রোধে দ্রুততম সময়ে রাজস্ব আদায় ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি ছাড়াই পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভারতে আমাদের রফতানি বেড়েছে গত বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

 

"