কওমি শিক্ষার্থীদের ঢাবি ক্যাম্পাস দর্শন

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুকরানা মাহফিলে অংশ নিতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এসেছেন প্রথমবারের মতো। দেশের প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠের বিভিন্ন এলাকা তারা ঘুরে দেখলেন, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা আর রাজু ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলে তুললেন ছবি।

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি উদ্যাপনে গত রোববার এই শুকরানা মাহফিলে যোগ দিতে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসে করে ঢাকায় পৌঁছাতে থাকেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। আজিমপুর বা মতিঝিলে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছানোর আগে তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পার হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এইটা টিএসসি, চল দেখে আসি।’ সোহরাওয়ার্দীতে শোকরানা মাহফিল শুরুর আগে সকালে টিএসসির ভেতরে গিয়ে দেখা যায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ঘুরছেন ফিরছেন, কেউ কেউ শুয়ে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। টিএসসির ক্যাফেটেরিয়াতেও দেখা গেল তাদের সরব উপস্থিতি।

ফেনী জেলার পরশুরাম থেকে আসা মহিউদ্দিন জানালেন, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাসে করে ঢাকায় এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আগে কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসিনি। টিএসসিতে মানুষ ঘুরতে আসে, এটা শুনেছি অনেকের কাছে।’

ফেনী সদরের মাওলানা আবুল কালাম বললেন, তিনি আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন, টিএসসিও দেখেছেন। সকালে এখানে এসেছেন মাহফিলে যাওয়ার আগে বিশ্রাম নিতে আর নাশতা করতে। মাহফিল শেষেও দেখা গেল টিএসসির রাস্তায় মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের স্রোত।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সব গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের পাদপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এই সরব উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও মনোযোগ কেড়েছে। পাঁচ বছর আগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনেরও সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও শাহবাগকে কেন্দ্র করে। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের বিরোধিতা করে নাম দিয়েছিল ‘নাস্তিকদের মঞ্চ’।

নারীনীতির বিরোধিতায় ২০১৩ সালের মে মাসে মতিঝিলে অবস্থান নিয়ে দিনভর তা-ব চালিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। তাদের আপত্তির মুখেই সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঢাকার বাইরে থেকে আসা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বাস রাখার জায়গা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন স্থান, আজিমপুর ও মতিঝিলে।

এসব বাসের কারণে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের পৌঁছাতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রুবায়েত জানায়, এত ভিড়ের মধ্যে হেঁটে আসতেও তার বেগ পেতে হয়েছে।

এই কর্মসূচির কারণে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড়, কাঁটাবন মোড়, মৎস্য ভবন মোড়, কদম ফোয়ারা, শিক্ষা ভবন মোড়, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত মোড় থেকে যানবাহন ঘুরিয়ে দেয় পুলিশ। ফলে আশপাশের অন্যান্য সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট।

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে অসংখ্য লোক এসেছে। এত লোক সমাগমের কথা চিন্তা করে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গণপরিবহন কম থাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সাকুরা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হেঁটে চলাচল করতে দেখা যায়।

 

"