শিক্ষকদের সনদ যাচাইয়ের দাবি

বগুড়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রানীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে গত ১০ অক্টোবর মো. জিলদার আলী নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বি.এড সনদপত্রগুলোর তদন্তের দাবিও করা হয়েছে।

অন্যদিকে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আবদুল ওয়াদুদকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ওই ঘটনার কিছুদিন আগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

অভিযোগকারী মো. জিলদার আলী জানান, ২০ দিন আগে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে ক্লাস চলাকালীন সময় অফিস সহকারীর কক্ষে ডেকে বিভিন্ন কৌশলে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখাচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষক আবদুল ওয়াদুদ। শিক্ষার্থীরা ভিডিও না দেখে ক্লাসে যেতে চাইলে কৌশলে তাদের যেতে দিতেন না ওই সহকারী শিক্ষক। অন্যদিকে ক্লাস শেষে অফিস সহকারীর রুমে তাদের দেখে ফেলে আরেক সহকারী শিক্ষিকা তহমিনা। তিনি দুই ছাত্রীর কাছে ক্লাসে উপস্থিত না থাকার কারণ জানতে চান। তখন মেয়ে দুটি কান্না করে তাকে সবকিছু বলে দেয়। সবকিছু শুনে সহকারী শিক্ষক তহমিনা তাদের কথাগুলো এখানেই সমাপ্ত করে দিতে বলেন এবং কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করেন।

এদিকে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন। সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে বছরে সর্বোচ্চ ১ মাস ২৫ দিন ছুটি দেন। এতে একজন শিক্ষকের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সরকারি বেতন আত্মসাৎ করছেন ওই শিক্ষক। এ ছাড়াও হজযাত্রী পাঠানোর ব্যবসায়ে জড়িত রয়েছেন প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে প্রচুর অবৈধ টাকার মালিক হয়েছেন ওই প্রধান শিক্ষক।

এসব বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু জাফরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে তাদের স্বাক্ষর করা কাগজ প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের নির্দেশে কেড়ে নেয় অফিস সহকারী শাজাহান আলী। এমনকি নবম শ্রেণির আকাশ নামে এক ছাত্রের অভিভাবককে ডেকে বিভিন্ন হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে রানীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে সব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ও বি.এড পাসের সার্টিফিকেট আসল না নকল তা তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী মো. জিলদার আলী আরো জানান, যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২০ দিন আগে। ৪ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সহকারী শিক্ষক আবদুল ওয়াদুদকে সাময়িক বরখাস্ত দেখানো হয়েছে। এতে তিনি হতবাক হয়েছেন।

সহকারী শিক্ষক আবদুল ওয়াদুদ জানান, ছাত্রীদের যৌন হয়রানি সম্পর্কে তার কিছু বলার নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি রয়েছেন তাদের কাছ থেকে জেনে নিন। প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান তার ওপর আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, সহকারী শিক্ষক আবদুল ওয়াদুদ ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করেননি। তিনি হাত দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করতেন। এ কারণে তাকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার কাছে সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে বছরে অতিরিক্ত ছুটি প্রদান বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ ম্যানেজিং কমিটির বিষয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. তৌফিক আজিজ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পূজার ছুটির পর বিষয়টি দেখা হবে।

"