বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ

‘বাবা-মায়ের পাশাপাশি আদালতকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে’

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবাহ প্রতিরোধ আইনের বিধিমালা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব লায়লা জেসমিন। এই বিধিমালায় অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু বাবা-মায়ের মতামতই নয়, একই সঙ্গে আদালতকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিশু : প্রতিশ্রুতি ও অগ্রগতি ২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করে এসব কথা বলেন তিনি।

লায়লা জেসমিন বলেন, ‘বাল্যবিয়ে নিরোধ করতে সচেতনতা বড় বিষয়। সমাজের সব অসংগতি শুধু আইন বা বিধি-বিধান দিয়ে দূর করা যায় না। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ আইনের বিধিমালা ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর জারি হয়েছে। এই বিধিমালায় অপরিণত বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু বাবা-মায়ের মতামতই না, এর সঙ্গে আদালতকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বাবা-মা এবং আদালতের মতামতের ভিত্তিতে অপরিণত বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে সম্মতি পাওয়া যাবে। দুই পক্ষকে কিন্তু একমত হতে হবে, তা না হলে বিয়েটা হবে না। দুই পক্ষের এক পক্ষ অমত দিলে এখানে বিয়ের কোনো সুযোগ নেই। বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে অনেকগুলো কারণের মধ্যে দারিদ্র্য একটি বড় বিষয়, শিক্ষাও একটি বড় বিষয়। আমরা আমাদের সমাজে যখনই একটি মেয়ের নিরাপত্তার অভাব বোধ করি, তখনই অল্প বয়সে তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিই। একজন দরিদ্র বাবা-মায়ের জন্য নিরাপত্তা একটা বড় বিষয়।’

চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশের ১৯টি জেলা থেকে ৮৫টি কেস স্টাডি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ শিশুর বিয়ে হয়েছে ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সে এবং মাত্র সাত শতাংশ শিশুর বিয়ে হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ বছর বয়সে। বাল্যবিয়ের কারণে অধিকাংশ মেয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্তর পার হতে পারছে না।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে আরো যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলো, শিশুদের জন্য পৃথক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়নে অগ্রগতি সামান্য, শিশুবান্ধব বাজেট শিশুদের জন্য অংশগ্রহণমূলক নয়, জন্মনিবন্ধনে এখনও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি উদ্বেগের বড় কারণ, সব শিশুর শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি এখনো চ্যালেঞ্জ, শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের অধিকার এখনো কম গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর ওপর সহিংসতার ক্ষেত্রে উদ্বেগের বড় বিষয় হলো, শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি।

প্রতিবেদনে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ বিধানের সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধে বিধিমালায় সঠিক দিক নির্দেশনাসহ ১২টি সুপারিশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহ্নাজ রহমান, এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সৈয়দ মতলুব রশীদ প্রমুখ।

"