২০১৭-১৮ অর্থবছর

বেনাপোলে ৯৯ শুল্ক ফাঁকি বাড়তি আদায় ২২ কোটি

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি থাকে সরকার প্রতি অর্থবছরে রাজস্ব পেয়ে থাকে দুই হাজার কোটি টাকার মতো। এই বন্দর ব্যবহার করেই বেশির ভাগ পণ্য আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। আর এই সুযোগে গড়ে উঠেছে শুল্ক ফাঁকি চক্র। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে চক্রটি বেনাপোল কাস্টমস থেকে প্রতিনিয়ত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য চালান নিয়ে যাচ্ছে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দরে ৯৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে। যা থেকে সরকার অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করেছে ২১ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ১২৫ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছিল ১১৪টি, শুল্ক আদায় করা হয় ৩১ কোটি ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছিল ১৮১টি, যা থেকে সরকার শুল্ক আদায় করেছিল ১৫ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার ১৯৩ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বেনাপোল কাস্টমস-বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের যোগসাজশ।

বেনাপোল কাস্টমসের শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই মাসে ৫টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়ে। যা থেকে জরিমানা আদায় করা হয় ১ কোটি ১৯ লাখ ৯ হাজার ৩৭৯ টাকা, আগস্টে ৬টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদঘাটন করে জরিমানা আদায় করা হয় ১ কোটি ৬১ লাখ ২২ হাজার ৫১০ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৫টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় হয় ৭২ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮৬ টাকা, অক্টোবরে ৭টি ঘটনা থেকে আদায় হয় ১ কোটি ৯২ লাখ ৬২ হাজার ৭৫১ টাকা, নভেম্বর মাসে ৫টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ টাকা, ডিসেম্বর মাসে ৭টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে জরিমানা আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭ হাজার ৯৭৯ টাকা, জানুয়ারি মাসে ৭টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার ৭৬৬ টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় ১ কোটি ১৪ লাখ ২৮ হাজার ১৩০ টাকা, মার্চ মাসে ৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৫ হাজার ৮৯৬ টাকা আদায় করা হয়, এপ্রিল মাসে ৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৯১ হাজার ৮৮৩ টাকা, মে মাসে ৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে আদায় করা হয় ২ কোটি ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৭ টাকা এবং জুন মাসে ৭টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা থেকে জরিমানার টাকা আদায় করা হয় ৬০ লাখ ৫৪ হাজার ৮২৯ টাকা।

বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী পরিচালক নিপূণ চাকমা জানান, বেনাপোল দিয়ে কেউ যাতে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা না ঘটে সে জন্য আমরা তৎপর আছি। তবে কিছুটা লোকবল ঘাটতি রয়েছে। তারপরও আগামীতে কেউ যাতে বড় ধরনের শুল্ক ফাঁকি দিতে না পারে সে জন্য সব ধরনের চেষ্টা আমাদের রয়েছে। শুল্ক ফাঁকি রোধে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের এক নেতা বলেন, শুল্ক ফাঁকি বা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির সঙ্গে সরাসরি কতিপয় কাস্টমস কর্মকর্তা জড়িত। তাদের সম্মতি ছাড়া শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটতে পারে না। তিনি বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শুধুমাত্র মাল ছাড় করানোর দায়িত্ব পালন করে। শুল্ক ফাঁকি মূলত আমদানিকারক ও কাস্টমসÑ বন্দরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হয়ে থাকে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির পক্ষে আমরা নয়। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে অবশ্যই কাস্টমের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কেননা কাস্টমের চোখ ফাঁকি দিয়ে শুল্ক ফাঁকি হতে পারে না। শুল্ক ফাঁকি রোধে কাস্টমকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, শুল্ক ফাঁকির কয়েকটি পণ্য আমরা আটক করে মামলা দিয়েছি। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে লাইসেন্স বাতিল, মামলা, অর্থদন্ডসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য আমদানি হলে তাতে কাস্টমস ছাড় দেয় না। জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়লে আমদানিকারকের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। আমাদের নজরদারির কারণে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচারের কোনো সুযোগ পাচ্ছে না ওই চক্রটি বলে জানান তিনি।

 

"