খুলনায় স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা

স্ত্রী-শাশুড়ি আটক

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

খুলনা ব্যুরো

খুলনার ডুমুরিয়ার পল্লীতে মো. রসুল বরকন্দাজ (২১) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনাটি উপজেলার গোনালী গ্রামের। গতকাল শুক্রবার পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার নোয়াকাঠি গ্রামের হালিম বরকন্দাজের ছেলে রসুল বরকন্দাজের সঙ্গে এক বছর আগে একই উপজেলার গোনালী গ্রামের আমজাদ শেখের মেয়ে ইয়াছমিন বেগমের বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি চলতে থাকে এবং স্ত্রী ইয়াছমিন তার বাপের বাড়িতে থাকে।

৫ অক্টোবর রসুল তার স্ত্রীকে আনার জন্য শ্বশুরবাড়িতে যায়। সেখানে থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে হত্যার পর গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পুলিশ তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের বাবা হালিম জানান, আমার বেয়াই ফোন করে তার মেয়েকে নিয়ে আসার জন্য ছেলেকে যেতে বলে। কথা অনুযায়ী রসুল তার শ্বশুরবাড়ি যায়। এরপর হঠাৎ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফোন করে আমাদের জানানো হয় সে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যায়। আমরা গিয়ে দেখি রসুলের গলায় ওড়না ও গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলানো এবং তার পা মাটির সঙ্গে লাগানো আর সারা শরীরে ধুলা-বালি মাখা। আমি নিশ্চিত ওরা আমার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডুমুরিয়া থানার এসআই অনিষ মন্ডল জানান, লাশটি যেভাবে ঝুলে ছিল তাতে মনে হয় না সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ ছাড়া ব্লেড দিয়ে তার হাতের কব্জি ও পায়ের গোড়ালির ওপরে কাটা চিহ্ন দেখা যায়। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। এ ঘটনায় নিহত গোলম রসুলের মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে পুত্রবধূ ইয়াসমিন বেগম, বেয়াই আমজাদ শেখ, ও বিয়াইন সুফিয়া বেগমের নাম উল্লেখ করে ডুমুরিয়া থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ নিহতের স্ত্রী ইয়াছমিন ও শাশুড়ি সুফিয়া বেগমকে আটক করেছে।

 

"