ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তির প্রশ্ন শিক্ষার্থীর মুঠোফোনে

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত) ভর্তি পরীক্ষার আগে এক শিক্ষার্থীর মুঠোফোনে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন আসার পর সেগুলোর সঙ্গে মূল পরীক্ষার অধিকাংশ প্রশ্নের মিল পাওয়া যায়। তবে একে ‘প্রশ্ন ফাঁস’ না বলে ‘ডিজিটাল জালিয়াতি’ বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাম্পাসের বাইরে ৮১টি কেন্দ্রে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়। পরীক্ষা শুরুর ৩১ মিনিট পরই হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের ১৪টি ছবি সাংবাদিকদের হাতে আসে। পরে যাচাই করে দেখা যায়, এ প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর ৪৩ মিনিট আগে (সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে) এক শিক্ষার্থীর ফোনে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র বলেন, পরীক্ষার আগের রাতে গ্রাম থেকে এক পরীক্ষার্থী আসে তার কাছে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই পরীক্ষার্থীর মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে এক সেট প্রশ্নপত্র আসে। তবে কিছু সময় পর জানা যায় সেটি ভুল। কিছুক্ষণ পরে সকাল ৯টা ১৭ মিনিটের দিকে ফের এক সেট হাতে লেখা উত্তরসহ প্রশ্ন হোয়াটসঅ্যাপে আসে। প্রশ্নগুলো অভিভাবকের মাধ্যমে ওই পরীক্ষার্থীর মোবাইলে আসে। পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে জানতে পারি, প্রশ্নগুলো বগুড়ার এক প্রাইভেট কোচিং (ইপিপি) থেকে তার বাবা পেয়ে তাকে পাঠিয়েছেন। তারপর সেটা এক সাংবাদিককে জানাই। পরে পরীক্ষার মূল প্রশ্নের সঙ্গে সেটার মিল পাওয়া যায়।

পরে দেখা যায়, মূল প্রশ্নপ্রত্র ও মোবাইল ফোনে আসা প্রশ্নের ৭২টি হুবহু একই। ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে বাংলা অংশে ১৯টি, ইংরেজি অংশে ১৭টি, সাধারণজ্ঞান অংশে ৩৬টি (বাংলাদেশ বিষয়াবলি ১৬ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ২০) প্রশ্নে হুবহু মিল রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরে সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সোহেল রানাকে জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা কোনো নির্ভরশীল সূত্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য নিশ্চিত হতে পারিনি। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। তবে যে বিষয়টি বলা হচ্ছে সেটি প্রশ্ন ফাঁস নয়, ডিজিটাল জালিয়াতি কিনা সেটা খতিয়ে দেখব। যদি অভিযোগটি প্রমাণিত হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম বলেন, সর্বোচ্চ নজরদারির মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ভিত্তি নেই। আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি।

গত বছরও ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সেটিকে ডিজিটাল জালিয়াতি আখ্যায়িত করে একটি তদন্ত কমিটিও করেছিল। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটির কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। এ বছর ‘ঘ’ ইউনিটে ১৬১৫টি আসনের বিপরীতে (বিজ্ঞান ১১৫২, বিজনেস স্টাডি ৪১০, মানবিক ৫৩টি) আবেদনকারী ছিলেন ৯৫ হাজার ৩৪১ জন।

 

"